১১ সেকেন্ডের জাদু ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’র ৩৬তম বার্ষিকী

আপডেট : ২২ জুন ২০২২, ০৩:১৫ পিএম

মাত্র ১১ সেকেন্ড। মাঝেমধ্যে ইতিহাসের পাতায় প্রবেশের জন্য কেবল ১১ সেকেন্ডই যথেষ্ট। আর ইতিহাস সৃষ্টিকারী ব্যক্তিটি যদি হন দিয়েগো ম্যারাডোনা; তাহলে নিশ্চিত থাকুন, এর চেয়ে বেশি সময় দরকার পড়বে না আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির জন্য।

অমরত্ব পাওয়া এক দৌড়। এক ঐতিহাসিক একক প্রচেষ্টা এবং অবর্ণনীয় গোল— যা জন্ম দিয়েছিল ক্রীড়া বিশ্বের আলোচিত মুহূর্তের। যার আনুষ্ঠানিক নাম ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’।

আর এই গোলের সৃষ্টি ম্যারাডোনার পায়ে। আজ সেই ঐতিহাসিক গোলের ৩৬তম বার্ষিকী। ১৯৮৬ সালের ২২ জুন বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয়ার্ধে মাঝমাঠ থেকে দৌড় শুরু ম্যারাডোনার। এরপর একে একে প্রতিপক্ষের পাঁচ খেলোয়াড়দের ছিটকে পেলে পিটার শিলটনকে বোকা বানানো গোল। ইংলিশ গোলরক্ষকের আদতে করার কিছুই ছিল না। বল পায়ে ‘ফুটবল ঈশ্বর’কে থামানো যে অসাধ্য!

মেক্সিকোর আজটেক সভ্যতার নাম শোনেনি এমন লোক কমই আছেন বিশ্বে। হাজার বছরের প্রাচীন এই সভ্যতার নামে রাখা ‘এস্তাদিও আজটেকা’। ইতিহাসের সঙ্গে ইতিহাসের সুতো বাঁধতে ম্যারাডোনা যেন এই মাঠকে বেছে নিয়েছিলেন।

৩৬ বছর আগে ফুটবল বিশ্বকে মুহূর্তের জন্য রা-হীন করে রেখেছিলেন তিনি। যা তর্কাতীতভাবে বিশ্বকাপের তো বটে ফুটবলের ইতিহাসেরও সেরা গোল হিসেবে স্বীকৃত।

একই ম্যাচে আরেকটি গোলও করেছিলেন ম্যারাডোনা। যা ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে কুখ্যাতি আছে। লাফিয়ে হাতের মুষ্টিতে বল জালে পাঠিয়েছিলেন। রেফারিও বিষয়টি বুঝতে পারেননি। খেলোয়াড়েরা আপত্তি জানালেও গোলের বাঁশি বাজে।

ইংল্যান্ড তখন ১-০ গোলে পিছিয়ে। ম্যাচে ফিরতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তখনই ম্যারাডোনার সেই জাদু। ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের চার মিনিট পর ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’! ম্যাচের তখন ৫৫ মিনিট।

পিটার বিয়ার্ডসলি বলের দখল হারান লুই চুচিয়োপ্পোর কাছে। এরপর বল রিসিভ করেন হেক্টর হেনরিখ আর নিজেদের অর্ধেকের ভেতরে ম্যারাডোনার সামনে বল ঠেলে দেন।

পায়ে বল নিয়েই ছিয়াশির মহানায়কের দৌড়। এরপর একে একে ছিটকে পেলেন তাকে বাধা দিতে আসা গ্যারি স্টিভেন্স ও পিটার রিডকে। এরপর রাইট-উইং ধরে দৌড়। রিড চেষ্টা করেছিলেন ম্যারাডোনার পিছু পিছু আসতে। তবে একটু পর তাড়া করা থামিয়ে দেন। এরপর টেরি বুচারকে বাঁ-পায়ে বোকা বানিয়ে ম্যারাডোনা ঢুকে পড়েন বক্সে।

পেনাল্টি বক্সের ভেতর বাধা দিতে আসেন সেন্টার ব্যাক টেরি ফেনউইক। শরীরটা আস্তে করে মোচড় মেরে তাকেও বোকা বানিয়ে লজ্জায় ফেলে দেন ম্যারাডোনা। এরপর এগিয়ে আসা গোলরক্ষক শিলটনের কাছে গিয়ে কোনাকুনিভাবে বল পাঠিয়ে দেন জালে।

এমন জাদুময়ী দৃশ্য ফুটবলে আর নেই। এ যে এক অসাধারণ কবিতা! ম্যারাডোনা মারা গেছেন। তবে তার মাঠের কাব্যিকতা এখনো মুখে মুখে ফেরে। রয়ে গেছে তার ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’। ম্যারাডোনার একক নৈপুণ্যে সেবার বিশ্বকাপ জেতে আর্জেন্টিনা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত