মায়ার্সকে দেখে শিখতে বললেন ডমিঙ্গো

আপডেট : ২৭ জুন ২০২২, ০৬:৪২ এএম

মোহাম্মদ আসিফকে দেখে ‘ওবল সিম’ বোলিং শিখেছিলেন জেমস অ্যান্ডারসন। ওবল সিম বোলিং হচ্ছে- বলের সিম ওপরের দিকে রেখে বল ডেলিভারি করলে বল ঘুরতে ঘুরতে গিয়ে পিচে আঘাত করে। তখন বল কোনদিকে সুইং করবে তা বোঝা মুশকিল হয় ব্যাটারদের জন্য। সংক্ষিপ্ত ক্যারিয়ারে কতবারই তো ব্যাটারদের বোকা বানিয়েছেন আসিফ। ২০১০-এ সেই বল শিখে এখনো উইকেট নিয়ে যাচ্ছেন বুড়ো অ্যান্ডারসন। ক্রিকেটে সেরা কারও থেকে কোনো কিছু শেখার বিষয়টা নতুন নয়। টিপস নিয়ে কোন ক্রিকেটার কত ভাবে নিজেকে বদলেছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেটারদেরও সেই পথে হাঁটতে বললেন কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। তার ইচ্ছে ব্যাটারদের যখন বলে শেখানো যাচ্ছে না তখন তারা দেখে শিখুক। তাই কাইল মায়ার্সের সেঞ্চুরি ইনিংস থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ তার।

শনিবার প্রথম সেশনে বিনা উইকেটে ১০০ রানের পর মাত্র ৩২ রানে ৪ উইকেট হারায় উইন্ডিজ। লাঞ্চের আগে কয়েক ওভারের জন্য ক্রিজে যান মায়ার্স। খুব চাপে থাকলেও ওই সময়টা ভালোভাবেই কাটিয়ে দিতে পারেন। এরপরের দুই সেশন খেললেন দাপটের সঙ্গেই। ঠিক যেন ২০২১ সালে চট্টগ্রামের ইনিংস। যেখানে চাপ উপেক্ষা করে এগিয়ে চলার স্পষ্ট উদাহরণ। দিন শেষে মায়ার্স দাপুটে ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকলেন ২ ছক্কা ও ১৫ চারে ১৮০ বলে ১২৬ রানে। ডমিঙ্গো মায়ার্সের মতো একটি ইনিংস দেখতে চান শিষ্যদের কাছে, ‘মায়ার্স যেভাবে খেললৃএমন ইনিংস খেলতে হবে আমাদের কাউকে। চট্টগ্রামে গত বছর ওরা মায়ার্সের ডাবল সেঞ্চুরিতে ৪০০ রানের মতো স্কোর তাড়া করেছে। আমাদের কেউ এখন তেমন বড় ইনিংস খেলতে পারছে না। মায়ার্সকে দেখে শিক্ষা নিতে হবে। টেস্ট ম্যাচ অনেক কঠিন। এরকম ভালো ব্যাটিং করতে না পারলে বড় দলগুলো শাস্তি দেবে এবং আমাদের এখন সেই শাস্তি পেতে হচ্ছে।’

প্রথম ইনিংসে ২৩৪ রান কোনোভাবেই মানতে পারছেন না ডমিঙ্গো। শরিফুল ও এবাদতের ৩৭ রানের জুটিকে ধন্যবাদ দিচ্ছেন। ওই রানটুকু না হলে ইনিংসে ১৯০ রানেই থেকে যায়। উইন্ডিজের সঙ্গে ব্যাটিং পারফরম্যান্সেই বড় পার্থক্য দেখছেন ডমিঙ্গো, ‘ব্যাটিং ও বোলিংয়ে এই মুহূর্তে আমরা বড় প্রশ্নের সম্মুখীন। কারণ এটা কোনোভাবেই আড়াইশ রানের উইকেট নয়। উইন্ডিজ দেখিয়ে দিচ্ছে, কেন তারা আমাদের চেয়ে ভালো। এখান থেকে বের হওয়ার একমাত্র উপায় লম্বা সময় ব্যাট করা। ৩০-৪০ রানের ইনিংস অনেক হচ্ছে, দু-একটা ফিফটি হচ্ছে। কিন্তু কাইল মেয়ার্স যেমন ১২০ ছাড়িয়ে যাচ্ছে, তেমন বড় ইনিংস কেউ খেলতে পারছে না। দলের রান ২৩০ আর ৪০০ হওয়ার মধ্যে মূল পার্থক্য এখানেই।’

এই পার্থক্যের কারণ কী? দক্ষিণ আফ্রিকান এই কোচ জানালেন ক্রিকেট সংস্কৃতির কারণে হতে পারে। টেস্ট ক্রিকেটের গৌরবময় কোনো সংস্কৃতিই তো নেই বাংলাদেশের, ‘বাংলাদেশ কেন পিছিয়ে তা পুরোপুরি বলা কঠিন। টেস্ট ক্রিকেটে উইন্ডিজের দীর্ঘ ইতিহাস ও সংস্কৃতি আছে। আশি-নব্বইয়ের দশকে তারা বিশ্বের সেরা টেস্ট দল ছিল। তারা জানে টেস্ট ম্যাচ কীভাবে খেলতে হয়। আমাদের টেস্ট ম্যাচ সংস্কৃতি এখনো ওই পর্যায়ে নেই।’

সংস্কৃতি না থাকার কারণেই এগিয়ে গিয়েও তা ধরে রাখতে পারে না বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিন লাঞ্চের ঠিক আগে দ্রুত কিছু উইকেট তুলেও পথ হারায়। সেই চাপ ধরে রাখতে পারেনি পরের দুই সেশন। ডমিঙ্গো জানালেন ড্রেসিংরুম থেকে সঠিক বার্তাই দিয়েছিলেন তারা। কিন্তু বোলাররা উইকেটের লোভে সঠিক জায়গায় বল করতেই ভুলে যান। ডমিঙ্গো বলেন, ‘বার্তাটা সবসময়ই থাকে ডট বল করে চাপ গড়ে তোলা। উইকেট নেওয়ার জন্যই আমাদের সেই প্রক্রিয়াটা দরকার। কিন্তু উইকেটের তাড়নায় আমরা অনেক বেশি আলগা বল করে ফেলেছি। ধৈর্য ধরা, শৃঙ্খলা রাখা, এই প্রক্রিয়াগুলোয় আমরা জোর দিয়েই বলে যাচ্ছি। কিন্তু যথেষ্ট লম্বা সময় ধরে আমরা তা করতে পারছি না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত