বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ‘বিতর্কিত’ মন্তব্য: জাবি শিক্ষকের শাস্তি দাবি

আপডেট : ২৭ জুন ২০২২, ১০:৪৬ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশনে একাত্তর-পরবর্তী সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে ‘বিতর্কিত’ মন্তব্যের পর অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদারের শাস্তি দাবি করেছে শিক্ষকদের একাংশের সংগঠন সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ।

সোমবার সংগঠনটির আহ্বায়ক ও জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক আব্দুল জব্বার হাওলাদারের স্বাক্ষর করা এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৪ জুনের (শুক্রবার) সিনেট সভায় মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষকদের অবসরের বয়সসীমা এক বছর বাড়ানোর বিরোধিতা করে পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার মুক্তিযোদ্ধাদের লুটতরাজকারী ও নারী নিপীড়নকারী বলে মন্তব্য করেছেন। অধিবেশনে বেশির ভাগ সিনেট সদস্য মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষকের এক বছর অতিরিক্ত চাকরির সুবিধা বহাল রাখার ব্যাপারে মত দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অধ্যাপক অজিত এমন অশালীন মন্তব্য করে মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আমির হোসেনসহ দেশের সব মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করেছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই ধৃষ্টতামূলক মন্তব্যের মাধ্যমে অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো একাডেমিক এবং প্রশাসনিক পদে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন। এ ঘটনার সঠিক বিচার ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারলে এটি দেশবাসীর পবিত্র চেতনায় চরম আঘাত বলে প্রতীয়মান হবে।

বিবৃতিতে রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও এ ঘটনা খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যপন্থী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত এবং আওয়ামী লীগের শিক্ষকদের একাংশের সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদে’র সভাপতি । এ ছাড়া তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গাণিতিক ও পদার্থবিষয়ক অনুষদের ডিনের দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে শুক্রবারের সিনেট অধিবেশনে অধ্যাপক অজিত ছাড়াও প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকজন সিনেটর ২০১২ সালের আইন মেনে মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষকদের ৬৫ বছরের বেশি চাকরিতে না রাখার পক্ষে মত দেন। তবে অধিকাংশ সিনেটর বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষক অধ্যাপক আমির হোসেনকে সম্মান স্বরূপ এ সুবিধা দেওয়ার পক্ষে মত দেন। পরে সর্বসম্মতিক্রমে বিষয়টি সুরাহার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতামত নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

শিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষক সাবেক উপ-উপাচার্য ও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আমির হোসেনের অবসরের বয়স এক বছর বাড়িয়ে চিঠি দিয়ে পরে তা বাতিলের চেষ্টা করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

তারা অভিযোগ করেন, উপাচার্য পদে কে আসবেন এমন হিসাবনিকাশ মেলাতে গিয়ে অধ্যাপক আমির হোসেনকে অবসরে পাঠানোর জন্যই এই আয়োজন।

শুক্রবার অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালেয়ের ৩৯তম বার্ষিক সিনেট সভায় অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার বলেন, ‘আমার বয়স যখন ১৪-১৫ তখন মুক্তিযুদ্ধ হয়, মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী কালও দেখেছি। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েছি। অনেক কিছুই দেখেছি। আজ এখানে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে যে ইমোশন (আবেগ) তৈরি হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধাদের অবশ্যই আমি সম্মান করি। আবার এই মুক্তিযোদ্ধারাই কীভাবে নিপীড়ন করেছে নারীদের, আমি দুয়েকটা নামও বলতে পারি।’

পরে এ বিষয়ে জানতে চাইলে অজিত কুমার তার মন্তব্যের বিষয়টি নিশ্চিত করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আমি এমন মন্তব্য করেছি। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের আমি সম্মান করি।’

উপাচার্য (সাময়িক দায়িত্বে) অধ্যাপক মো. নুরুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার মনে হয় আমাকে না জিজ্ঞেস করে ওই অজিত কুমার মজুমদারকে জিজ্ঞেস করলে ভালো হয়। কেন বলেছেন, কী প্রেক্ষিতে বলেছেন উনি ভালো বলতে পারবেন।’ উপাচার্য হিসেবে তার কাছে কোনো ব্যাখ্যা চাইবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় ব্যাখ্যা চাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত