ভূমিকম্পের পর ভূমিকম্প আসছে, ত্রাণের খবর নেই

আপডেট : ২৭ জুন ২০২২, ১১:২০ পিএম

পূর্বপরিচিত না হলে দুয়েগুর গ্রামটিকে আজ আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। গ্রামটির কাদামাটির ঘরগুলো মাটির সঙ্গে মিলেমিশে একাকার। দুয়েগুর হলো আফগানিস্তানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় পাকতিয়া প্রদেশের পাহাড়বেষ্টিত একটি গ্রাম। সম্প্রতি আফগানিস্তানে যে ভূমিকম্প হয়, এর উৎসস্থল থেকে মাত্র ২০ মাইল দূরেই দুয়েগুর অবস্থান। গ্রামটির সিংহভাগই পুরোপুরি গুঁড়িয়ে গেছে। যে কয়েকটি ঘর এখনো দাঁড়িয়ে আছে, সেখানে মানুষের পক্ষে বসবাস করা সম্ভব নয়।

দেশটির শাসক তালেবান সরকার প্রত্যন্ত ওই গ্রামটিতে তাদের প্রতিনিধি পাঠিয়েছে। কিন্তু এখনো সেখানে কোনো ত্রাণ যায়নি। সম্প্রতি বিবিসির একটি দল গ্রামটিতে যায়। সেখানে তাদের সঙ্গে কথা হয় গ্রামের ২০ বছর বয়সী তরুণ আরাফাত জ্ঞানখাইলের সঙ্গে। নিজের বাড়ির ধ্বংসস্তূপের বাইরে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘সেদিন রাতে আমি বিশাল বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাই। কিছুক্ষণ পরেই শক্ত কিছু আমার মাথায় আঘাত করে। ভেবেছিলাম, আমি মরেই যাব। কিন্তু কোনোমতে হামাগুড়ি দিয়ে ধ্বংসস্তূপের বাইরে আসতে পারে। কাদা-পাথর সরিয়ে মাকে পাই। কিন্তু যখন পাই, ততক্ষণে তিনি মারা গেছেন।’ আরাফাতের চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ। তার মা জারতারাকে হারিয়ে হতবিহ্বল তিনি।

গ্রামের আর এক বাসিন্দা জাপির খানের পরিবারের অনেকেই মারা গেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই পরিশ্রম করে যে বাড়ি বানিয়েছিলাম, তা আর নেই। আমাদের সাহায্যের প্রয়োজন। প্রতিদিন এখনো আফটারশক হচ্ছে। দিনে অন্তত দুই-তিনবার। গত রাত ১১টার দিকে একবার হয়েছে। এজন্যই আমরা খোলা জায়গায় ঘুমাচ্ছি। এখন আমাদের গ্রামজুড়ে শুধুই কান্না আর হতাশা। কেউ আমাদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি।’

দুয়েগুর থেকে পাহাড়ের নিচের দিকের গ্রাম জ্ঞান। সেখানে কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থা ও তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে কিছু সহায়তা পাঠানো হলেও দুয়েগুরে কেউ যায়নি। স্থানীয় তাজ আলি খান বলেন, ‘প্রত্যেক দিন গ্রামবাসীরা জ্ঞানে যাচ্ছেন সাহায্যের জন্য। কিন্তু প্রতিদিনই তারা খালি হাতে ফিরে আসেন। আমি বিশ্ববাসীকে অনুরোধ করছি, আমাদের সাহায্যের জন্য। আমাদের খাবারের প্রয়োজন। বাসস্থানের জায়গা ঠিক করার জন্য চাই অর্থ।’ ভূমিকম্পের আগেও দুয়েগুর গ্রামের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো ছিল না। কিন্তু ভূমিকম্প তাদের চরম সীমায় দাঁড় করিয়েছে। সৃষ্টিকর্তা ছাড়া এখন তাদের আর ভরসা করার মতো কেউ নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত