মুক্তিযোদ্ধাদের লুটতরাজকারী ও নারী নিপীড়নকারী বলে মন্তব্য করে সমালোচিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার ও দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে নিজের বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার।
গত ২৪ জুন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশনে একাত্তর-পরবর্তী সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে দেওয়া এই অধ্যাপকের নেতিবাচক মন্তব্যের পর সমালোচনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এই অধ্যাপকের শাস্তির দাবিতে বিবৃতি দেয় শিক্ষকদের সংগঠন সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ এবং শিক্ষার্থীদের সংগঠন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্মের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার গাণিতিক ও পদার্থবিষয়ক অনুষদের ডিনের দায়িত্বও পালন করছেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের একাংশের সংগঠন বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের সভাপতিও তিনি।
বৃহস্পতিবারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, আমার বক্তব্যের কোন অংশে সম্মানিত মুক্তিযোদ্ধা, মুত্তিযোদ্ধার পরিবার ও দেশবাসী কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার বিনীত অনুরোধ করছি।
তিনি আরও বলেন, নৈতিক স্থলনের দায়ে অভিযুক্ত কোন শিক্ষককে মহান জতীয় সংসদের আইন (২০১২) ভঙ্গ করে সুবিধা দেওয়া ঠিক হবে না। অনেক অপরাধী মুত্তিযোদ্ধার শাস্তি বর্তমান সরকার নিশ্চিত করেছে। এ উদাহরণে দিয়ে গিয়ে কিছু সংখ্যক বিপদগামী মুক্তিযোদ্ধা না বলে শুধু মুক্তিযোদ্ধা বলায় আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের সৃষ্টি হয়েছে । যা অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত।
গত শুক্রবার (২৪ জুন) অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালেয়ের ৩৯তম বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে এক মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষকের অবসরের বয়সসংক্রান্ত রাষ্ট্রীয় সুবিধা বাতিল করা নিয়ে সিনেট অধিবেশনে একাত্তর-পরবর্তী সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার।
শিক্ষকদের একাংশ বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষক সাবেক উপ-উপাচার্য ও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আমির হোসেনের অবসরের বয়স এক বছর বাড়িয়ে চিঠি দিয়ে পরে তা বাতিলের চেষ্টা করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তারা অভিযোগ করেন, উপাচার্য পদে কে আসবেন এমন হিসাবনিকাশ মেলাতে গিয়ে অধ্যাপক আমিরকে অবসরে পাঠানোর জন্যই এই আয়োজন।
জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা বলছেন, ২০১২ সালে আইন হওয়ার পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ জন চাকরিজীবী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অতিরিক্ত মেয়াদ পেয়েছেন। অথচ অধ্যাপক আমির হোসেনকে এই সুবিধা দিয়ে এখন বাতিলের চেষ্টা চলছে। মূলত সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের ঘনিষ্ঠ শিক্ষকরা অধ্যাপক আমির হোসেনকে অবসরে পাঠানোর পাঁয়তারা করছেন বলে তারা দাবি করেন।
