ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল এবং বেসরকারি সংস্থা উবিনীগ (উন্নয়ন বিকল্পের নীতি নির্ধারণী গবেষণা)-এর নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার গণ বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ডের নতুন সদস্য মনোনীত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৫ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডি গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল ভবনের মেজর হায়দার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ট্রাস্টি বোর্ডের ৪৬তম সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ট্রাস্টি বোর্ড সভাপতি অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।
অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে ১৯৮৬ সালে স্নাতক ও ১৯৮৭ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এরপর ১৯৯৯ সালে ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে জার্মানির বন শহরের ইনভাইরনমেন্টাল ল’ সেন্টার থেকে পোস্ট ডক্টরেট ফেলোশিপ অর্জন করেন।
তিনি স্কুল অফ ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজে একজন কমনওয়েলথ ফেলো হিসেবে কাজ করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পূর্বে বহুল প্রচারিত সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘বিচিত্রায়’ কাজ করতেন। আসিফ নজরুল কিছু সময় বাংলাদেশ সরকারের একজন কর্মকর্তা (ম্যাজিস্ট্রেট) হিসেবে কাজ করেছেন। টিভি টকশো ও কলামিস্ট হিসেবে সাহসী রাজনীতি বিশ্লেষণের জন্য তিনি বিশেষভাবে খ্যাত। আইনের শাসন, পরিবেশগত সমস্যা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন ধরনের মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। ড. আসিফ নজরুল দশের অধিক গ্রন্থের রচয়িতা।
ফরিদা আখতারের জন্ম চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ থানার হারলা গ্রামে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে পড়াশোনা করেছেন। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র মানুষের অবস্থা জানা এবং পরিবর্তনের জন্য নীতিনির্ধারণী গবেষণা ও লেখালেখিই তার কাজের প্রধান জায়গা। নারী উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, কৃষি, মৎস্য সম্পদ, তাঁত শিল্প, গার্মেন্টস শিল্প ও শ্রমিক, জনসংখ্যা এবং উন্নয়নমূলক বিষয়ে নিবিড়ভাবে দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে কাজ করছেন।
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের নামে পরিচালিত কার্যক্রমের মারাত্মক কুফল ও নারী স্বাস্থ্যের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে লেখালেখি এবং প্রতিকার আন্দোলনের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে সুপরিচিত ফরিদা আখতার। তিনি বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত।
ফরিদা আখতারের প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘নারী ও গাছ’, ‘কৈজুরী গ্রামের নারী’ ও ‘গাছের কথা’।
