শৃঙ্খলা ফেরাতে সেনাবাহিনীকে ডাকলেন বিক্রমাসিংহে

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২২, ০৬:৩৯ পিএম

পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে শৃঙ্খলা ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছেন শ্রীলঙ্কার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে। বুধবার (১৩ জুলাই) প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে এ নির্দেশনা দেন তিনি।

নিরাপত্তা বাহিনীর উদ্দেশে তিনি বলেন, শৃঙ্খলা ফেরাতে যা প্রয়োজন সেটাই করুন। বিক্ষোভকারীরা ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে আমার দায়িত্ব পালনে বাধা দিতে চায়।

রনিল বিক্রমাসিংহে টেলিভিশনে ভাষণে বলেন, তিনি সামরিক বাহিনীকে ‘শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের জন্য যা যা করা দরকার তা করার’ নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি তার অফিস এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় ভবন দখলকারী বিক্ষোভকারীদের বাড়ি ফিরে যেতে এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করারও আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের সংবিধান ছিন্ন করতে পারি না। আমরা ফ্যাসিস্টদের ক্ষমতা দখল করতে দিতে পারি না। আমাদের গণতন্ত্রের জন্য এই ফ্যাসিবাদী হুমকির অবসান ঘটাতে হবে’।

কলম্বো থেকে বিবিসির একজন সংবাদদাতা বলেছেন, বিক্রমাসিংহের সর্বশেষ বিবৃতি একটি ইঙ্গিত হতে পারে যে, সেনাবাহিনী রাজধানীতে নিরাপত্তা প্রয়োগ করতে চলেছে।

এর আগে শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে বিক্ষোভকারীরা। পুলিশের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা দফায় দফায় সংঘর্ষের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রবেশ করতে সমর্থ হয় বিক্ষুব্ধ জনতা।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, শ্রীলঙ্কার পলাতক প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাক্ষে দেশ ছাড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মিছিল করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দখল করে নেয় বিক্ষোভকারীরা। অনেকটা আকস্মিক বন্যার মতো জনতার স্রোতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দখলের পর রীতিমতো উদ্‌যাপনে মাতে বিক্ষোভকারীরা। ড্রাম বাজিয়ে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর নাম ধরে তালে তালে তারা স্লোগান দিচ্ছিল- ‘রনিল পাগলা’, ‘গোতা পাগলা’। তাদের দাবি, দেশ ছেড়ে পালানো প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের সহযোগী রনিল বিক্রমাসিংহেও পদত্যাগ করতে হবে।

রনিল বিক্রমাসিংহকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টের স্পিকার মাহিন্দা ইয়াপা আবেওয়ার্দেনা। এরপরই শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা জারি করেন বিক্রমাসিংহে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত