স্কুলছাত্রী ও তার বাবা-মাকে কুপিয়ে জখম করল ৩ তরুণ

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২২, ০২:০৬ এএম

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ফেইসবুকে ছবি আপলোড করাকে কেন্দ্র করে এক স্কুলছাত্রী ও তার বাবা-মাকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করেছে প্রতিবেশী তিন যুবক। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

গতকাল শুক্রবার মোহনগঞ্জ থানার ওসি রফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

আহতরা হলেন নওহাল গ্রামের দশম শ্রেণির ছাত্রী তামিমা আক্তার ইতি (১৪), তার বাবা ফজলুর রহমান (৬০) ও মা রীনা আক্তার (৫০)। ফজলুর রহমানের মাথায় ও হাতে কোপের জখম রয়েছে। রীনা আক্তারের শরীরে লাঠির আঘাতের অসংখ্য দাগ রয়েছে। এদিকে ইতির পায়ে কোপের জখমসহ শরীরে লাঠির আঘাতের অসংখ্য চিহ্ন রয়েছে। ইতি স্থানীয় একটি কারিগরি কলেজে দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।

হামলাকারী তিন যুবক হলো, একই গ্রামের মাজহারুল ইসলাম রবিন, তার ভাই এমদাদুল হক কবির ও চাচাতো ভাই তোফায়েল।

মোহনগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থাকা তামিমা আক্তার ইতি বলে, ‘রবিন সম্পর্কে আমার গুষ্ঠীয় চাচাতো ভাই। কিছুদিন আগে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে সে আমার পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলে। আমি ছবি তুলতে চাইছিলাম না। কিন্তু রবিন ভাই ধমক দিয়ে ছবি তুলেছে। সেই ছবি স্ত্রীকে দেখিয়ে চটানোর উদ্দেশ্যে ফেইসবুকে পোস্ট দেয় রবিন। কারণ তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া চলছিল। ফেইসবুকে ছবি দেখে তার স্ত্রী কোহিনুর ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়িতে এসে আমাকে গালাগাল করে চলে যায়। কিন্তু কোহিনুর বাসায় গিয়ে তার স্বামীকে বলে তাকে আমরা মারধর করেছি। এতেই রবিন ক্ষিপ্ত হয়ে তার ভাই কবির ও চাচাতো ভাই তোফায়েলকে নিয়ে আমাদের বাড়িতে এসে রামদা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এ

 সময় আমার বাবাকে মাথায় ও হাতে কুপিয়ে জখম করে। আমাকে প্রথমে পায়ে কোপ দেয়, পরে কিল-ঘুষিসহ লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ফেলে রেখে যায়। ফেরাতে এলে আমার মাকেও বেধড়ক লাঠিপেটা করে। তাদের স্বামী-স্ত্রীর ভেজাল সেটা একান্তই তাদের নিজের। কেন ছবি তুলে ফেইসবুকে দিয়ে আমাদের এভাবে আক্রমণ করল। ছবিগুলো তো স্বাভাবিক ছিল আর দশটা ছবির মতো। এ ঘটনার বিচার চেয়ে আইনি ব্যবস্থা নেব।’

ইতির মা রীনা আক্তার বলেন, ‘চাচাতো ভাই বিয়েতে স্বাভাবিক একটা ছবি তুলেছে। বাড়িতে এসে আমাদের সবাইকে এভাবে নির্দয়ভাবে কুপিয়েছে, পিটিয়েছে।

এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।’

মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত