তামিম ইকবালের আউটে বাংলাদেশের জয় কঠিন হয়ে ওঠে। সেই দুশ্চিন্তায় পড়েন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপনকে ফোন দেন তিনি। পাপন ভরসা দেন বাংলাদেশ জিতবে। শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটের জয়ে উইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশের আনন্দ নিয়েই সফর শেষ হয় বাংলাদেশের। শনিবার গায়ানার প্রোভিডেন্স স্টেডিয়ামে সিরিজের শেষ ম্যাচে ১৭৯ রানের লক্ষ্যে নেমে জয়টা এসেছে বন্ধুর পথে। ৬ উইকেট হারিয়ে ওই রান তুলতে বাংলাদেশের লেগেছে ৪৮.৩ ওভার। লিটন দাশের ফিফটি ও নুরুল হাসান সোহানের অপরাজিত ৩২ রানে জয় নিশ্চিত হয়।
দারুণ সিরিজ জয়ের পর তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতেই পারেন তামিম ইকবাল। উইন্ডিজকে টানা দুই সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করা গেল। গত ৫ সিরিজেই জয়ের মালা এসেছে। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের শক্তিটা আরও বাড়ল তাতে। কিন্তু অধিনায়ক হিসেবে বেঞ্চ পরীক্ষার কথা বলেও যে তা রাখলেন না তামিম!শনিবারের ম্যাচে পরিবর্তন এলো মাত্র একটি, একজন পেসার (শরিফুল) বাদ দিয়ে স্পিন শক্তি আরও বাড়ালেন ২৮ মাস পর তাইজুল ইসলামকে দলে নিয়ে। ম্যাচ শেষে এর ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। তাতে সন্তুষ্ট হওয়ার উপাদানও আছে। তবে সব কিছুই বদলে যেত। ১১৬ রানে যে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। স্বস্তি এই যে শেষে পথহারা হতে হয়নি। ব্যাটিংয়ে সেট হয়েও তামিম ৩৪ ও লিটন ৫০ করে ফেরেন। পরে মাহমুদউল্লাহ-সোহানের ৩১ ও সোহান-মিরাজের অপরাজিত ৩২ রানের জুটি অনিশ্চয়তা কাটায়। উইকেট বিবেচনায় ৬১ বলে ২৬ রানের ধীর ইনিংস খেলেন মাহমুদউল্লাহ। এই ক্ষতি পুষিয়ে দেন ৩৮ বলে ৩২ করা সোহান।
পুরো সিরিজে বাংলাদেশ স্পিনাররা দাপট দেখালেন। পরিকল্পনার বাইরে থেকে এসে তাইজুল ৫ উইকেটে ২৮ রান নিয়ে আগের সেরা ৪-১১ কে ছাড়িয়ে গেছেন। সবার প্রশংসা করে তামিম বলেন, ‘আমরা যাকেই সুযোগ দিয়েছি, তারা প্রত্যেকেই সেরা চেষ্টা করেছে। তাইজুল সেরা উদাহরণ।’
বেঞ্চ পরীক্ষা না করার ব্যাখ্যায় তামিম জানান, ‘আমি যখন ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কথা বলেছি তখন তারা মনে করেছে যে আমাদের পূর্ণ শক্তি নিয়ে যেতে হবে। যেটা ম্যানেজমেন্ট বলেছে, আমি সেটাতেও সন্তুষ্ট। আমাদের একটু সাহস দেখিয়ে জিনিসগুলো করতে হবে। এটাও বুঝতে হবে এর আগে আমরা করিনি।’
জিম্বাবুয়েতে সিরিজ আছে বাংলাদেশের এরপরই। ইংল্যান্ডের সঙ্গে দেশের মাটিতে সুপার সিরিজের ম্যাচ আছে। বাকি আছে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে করোনার কারণে স্থগিত থাকা সিরিজও।
