টাঙ্গাইলের বাসাইলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (ওজওউচ-৩) প্রকল্পের একটি সড়ক নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
প্রকল্পটিতে মোটা অঙ্কের ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে।
বাসাইল ইউপি অফিস-নয়া পাড়া সড়ক ভায়া জয়নাল মাস্টারের বাড়ি উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর।
সড়ক নির্মাণের ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৭ লাখ ৯০ হাজার ০৭৯ টাকায় সড়কটি নির্মাণ করেছে মেসার্স দুয়েল এন্টারপ্রাইজ।
অভিযোগ রয়েছে, সড়কটি নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম হলেও উপজেলা প্রকৌশলী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে অনিয়মের বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করে আছেন। প্রকল্পটির প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ না করেই ইতিমধ্যে ৪৭ লাখ ৩৩ হাজার ৭১৬ টাকা তুলে নিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাসাইল পৌরসভা ভবনের ঠিক উত্তর পাশ থেকে সড়কটির কাজ শুরু হয়েছে। দুই শত মিটার পরেই সড়কে মানহীন ইটের খোয়া দিয়ে সড়ক নির্মাণের কাজ করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, এক যুগ পূর্বে বন্ধ হওয়া একটি ইটের ভাটা থেকে পরিত্যক্ত ইটের খোয়া দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। ইটের খোয়া দেখে মনে হয় পোড়া মাটি। হাতে নিয়ে চাপ দিতেই ভেঙে যাচ্ছে পোড়া মাটির ইটের খোয়া।
প্যানাসাইডিংয়ের নিম্ন মানের কাজ করায় ইতিমধ্যে সড়কের বিভিন্ন জায়গায় মাটি ধসে গেছে। সাব-বেজের কাজ শেষ হলেও সেখানেও নানা অনিয়ম হয়েছে। দশ ইঞ্চি সাব-বেজের বদলে দেওয়া হয়েছে ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি। এ সকল অনিয়মের ছবি তুলতে গেলে স্থানীয় সাংবাদিকের প্রাণনাশের হুমকি দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আব্দুল মতিন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষক বলেন, যিনি সড়কটি নির্মাণ করছেন তিনি প্রকৌশলীর বন্ধু। এ জন্য যে কোন প্রকার অনিয়ম করেও পাড় পেয়ে যাচ্ছে ঠিকাদার। ঠিকাদার প্রভাবশালী ও খারাপ প্রকৃতির লোক হওয়ায় শত অনিয়ম হলেও স্থানীয় কেউ মুখ খুলতেও পারে না। শত অনিয়ম হলেও উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার অফিস থেকে কেউ দেখতে আসেনি। অফিস কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদার একত্রিত হয়েই তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সড়কটি নির্মাণ হওয়ায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা।
এ বিষয়ে দুয়েল এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর মাহফুজুর রহমান আখন বলেন, কাজটি আমার প্রতিষ্ঠানের এক সহযোগী স্থানীয় মতিন নামে একজন বাস্তবায়ন করছেন। এ সংক্রান্ত একটি চুক্তিনামাও আমাদের মধ্যে হয়েছে। তবে যত দূর জানি তিনি স্থানীয় প্রকৌশলীকে ম্যানেজ করেই সকল কাজ করতেছেন।
প্রকৌশলী আব্দুল জলিলকে মোটা অঙ্কের টাকা না দিয়ে কোন ঠিকাদারই বাসাইল উপজেলায় কাজ করতে পারে না বলেও তিনি জানান।
বাসাইল উপজেলার প্রকৌশলী আব্দুল জলিল ঠিকাদারদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের কথা অস্বীকার করে বলেন, বাসাইল ইউপি অফিস-নয়া পাড়া সড়ক ভায়া জয়নাল মাস্টারের বাড়ি উন্নয়ন প্রকল্পটিতে কোনো প্রকার অনিয়ম হচ্ছে না। কিছু নিম্নমানের ইটের খোয়া রাস্তার পাড়ে রাখা হয়ছিল। সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
