নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুলের বিজ্ঞান শিক্ষক মশিউর রহমান ওপর হামলা হয়েছে। বুধবার (২০ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে আমলাপাড়া ৪৬/১০ কে.বি সাহা রোডের বাড়িতে তার ওপর হামলা চালান বাড়ির মালিক পাপ্পু, মালিকের ছোট ভাই এহসানুল আলম খান অপু।
গুরুতর আহতাবস্থায় শিক্ষককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা হয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিক্ষক মশিউর রহমান দুই বছর ওই বাড়ির দোতলায় একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করেন। তিনি এই ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে নিয়মিত ব্যাচ পড়ান। বুধবার দুপুরে তার রুমে বসে থাকা অবস্থায় বাড়ির মালিকের ছোট ভাই অপু কোনো কারণ ছাড়া তার কক্ষে ঢুকে তাকে হুমকি দিয়ে বলেন বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য। এ সময় ভয়ে শিক্ষক মশিউর রহমান বাড়ির বাইরে চলে যান। রাত ৯টার দিকে শিক্ষক মশিউর রহমান বাসায় ফিরলে তাকে চারতলায় ডেকে নেয়া হয়। পরে অপু লোহার হাতুড়ি এবং বাঁশ দিয়ে তাকে পিটায়। একপর্যায়ে শিক্ষক মশিউরের মাথায় আঘাত করলে তার মাথা ফেটে যায়। পরবর্তীতে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি ফ্লোরে পড়ে থাকেন।
একপর্যায়ে তার রুমমেট আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষক শাহজাহান সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর মাথায় সাতটি সেলাই দেওয়া হয়। পরে তার পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) সকালে আহত শিক্ষক মশিউর রহমানের পক্ষে নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য আবদুস সালাম, ওয়াহিদ সা’দত বাবু ও সরকার আলম অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমান এবং সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিচুর রহমানকে অবহিত করলে তাদের থানায় এসে মামলা করার পরামর্শ দেন।
পরে গভর্নিং বডির তিন সদস্য সদর মডেল থানায় গিয়ে অপুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।
এ ব্যাপারে গভর্নিং বডির সদস্য আবদুস সালাম জানান, একটি সন্ত্রাসী মহল মশিউর রহমানকে হত্যার প্রচেষ্টা চালায়। এ ঘটনার পর ওই শিক্ষককে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। মশিউর রহমান একা ওই বাসায় অবস্থান করতেন। নিরাপত্তার কারণে তাকে ঢাকায় চিকিৎসা করানো হচ্ছে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিচুর রহমান মোল্লা জানান, মশিউর রহমানকে আহত করার ঘটনায় মামলা নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে আসামি গ্রপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
