এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় দোষীদের শাস্তি দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। বুধবার থেকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার সকালে থেকে একাধিক মিছিল ও সমাবেশ করে শিক্ষার্থীরা। সেসব সমাবেশ থেকে যৌন নিপীড়নের ঘটনার প্রতিবাদ ও নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতসহ চার দফা দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।
রবিবার রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হতাশার মোড় থেকে বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকায় নিয়ে এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। পাঁচজন ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে বলেও অভিযোগ করা হয়। পরদিন প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ দেন ওই ছাত্রী। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে একই দিন হাটহাজারী থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলাও করেন। ওই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রীদের রাত ১০টার মধ্যে হলে প্রবেশের নির্দেশনা দিলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার গভীর রাত অবধি হলের বাইরে বিক্ষোভ দোষীদের শাস্তিার দাবি জানান তারা। পরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা।
বেলা ১১টায় একদল শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের সামনে মিছিল শুরু করলে রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে তাতে যোগ দেন। পরে সাড়ে ১১টার দিকে বঙ্গবন্ধু চত্বরে আরেক দল শিক্ষার্থী নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। একই সময়ে শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান নেন কয়েকশ শিক্ষার্থী। এ সময় তারা ‘ভিসি যেখানে নারী, সেখানে অনিরাপদ কেন আমি?’, ‘সুবোধ তুই পালিয়ে যা, তোর ভাগ্যে নিরাপত্তা নাই’, ‘নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘নাম অবশ্যই প্রশাসনের জানা, তবে মামলা কেন অজ্ঞাতনামা’ এসব স্লোগান দিতে থাকেন।
আন্দোলনে অংশ নেয়া সাজিয়া আহমেদ নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ছাত্রীকে নিপীড়নের যে ঘটনার বিচার চার ঘণ্টার মধ্যে হওয়ার কথা ছিল সে ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও প্রশাসন কিছু করতে পারেননি। আমরা তো ক্যাম্পাসকে আমাদের বাড়ির মতো মনে করি। এখানে প্রশাসন আমাদের অভিভাবক। আমাদের বাড়িতে আমাদের আমাদের অভিভাবকরাই আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না। এরকম অভিভাবক থেকেই বা কী লাভ? ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে অবশ্যই শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
নুজরাত জেবিন সুমাইয়া নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে এক শিক্ষার্থী লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি । এভাবেই আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া বলেন, ‘যেই সময় ঘটনা ঘটেছে সেই নির্দিষ্ট সময়ের প্রত্যেকটি পয়েন্টের সিসিটিভি ফুটেজ আমরা সংগ্রহ করেছি। ফুটেজের প্রত্যেক সেকেন্ড গুরুত্ব সহকারে চেক করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্তে প্রশাসন এবং পুলিশ একযোগে কাজ করছে। প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে আমরা তৎপর রয়েছি।’
এর আগে গত বুধবার রাত সোয়া ৯টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চবি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান নেন ছাত্রীরা। সে সময় তারা চার দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে আছে- বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ও মেডিকেল সেন্টারে প্রবেশের সময়সীমা তুলে নেওয়া ও ক্যাম্পাসে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বর্তমান যৌন নিপীড়ন সেল ভেঙে নতুন সেল গঠন, সেলে জমা অভিযোগগুলো চার কর্মদিবসের মধ্যে সমাধান।
আন্দোলনকারীরা বলেন, চার কর্মদিবসের মধ্যে তাদের দাবি মানা না হলে প্রক্টরিয়াল বডিকে পদত্যাগ করতে পারে। তারা না পারলে সমাধান করতে হবে উপাচার্যকেই। তিনি ব্যর্থ হলে তাকেও নিজের পদ ছাড়তে হবে।
