বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকট নিরসনে ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরগুলো খুলে দিতে আজ একটি চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। টানা প্রায় পাঁচ মাস ধরে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে রাশিয়া। রুশ এই আগ্রাসনের কারণে ইউক্রেনীয় বন্দরগুলো কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে এবং এতে করে বিশ্বজুড়ে দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট।
এমন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের কৃষ্ণ সাগরের বন্দরগুলোকে শস্য রপ্তানির জন্য পুনরায় খুলে দিতে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। শুক্রবার (২২ জুলাই) এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে জানিয়েছে তুরস্ক। এর ফলে বিশ্বজুড়ে সৃষ্ট খাদ্যসংকট দূর হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইউক্রেন ও রাশিয়া, উভয়ই বিশ্বের বৃহত্তম খাদ্য রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। বৃহস্পতিবার তুরস্কের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে মস্কো-কিয়েভের চুক্তির বিষয়ে ঘোষণা করা হলেও যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া এই দুটি দেশের কোনোটিই তাৎক্ষণিকভাবে সেটি নিশ্চিত করেনি।
তবে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দেওয়া ভিডিও ভাষণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইউক্রেনের কৃষ্ণ সাগরের বন্দরগুলোকে শস্য রপ্তানির জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া হতে পারে।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোরে ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রাশিয়ান সৈন্যরা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে ইউক্রেনে এই হামলা শুরু করে।
ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরুর পরপরই কৃষ্ণসাগরে রুশ নৌবহরের অবরোধের ফলে সারা বিশ্বের বাজারে শস্য সরবরাহ কমে যায়। আর এরপর থেকে বিশ্বজুড়ে খাদ্যশস্যের দাম বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে।
এদিকে কৃষ্ণ সাগরের ইউক্রেনীয় বন্দরগুলোকে শস্য রপ্তানির জন্য পুনরায় খুলে দিতে সম্ভাব্য এই চুক্তির সম্পূর্ণ বিবরণ তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে জাতিসংঘের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তুরস্কে যাচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের কার্যালয় জানিয়েছে, শুক্রবার গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) দুপুর দেড়টায় (বাংলাদেশ সময় সাড়ে সাতটায়) এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে।
রাতে দেওয়া ভাষণে জেলেনস্কিও বলেছেন, আগামীকাল আমরা তুরস্ক থেকে আমাদের রাষ্ট্রের বিষয়ে কিছু খবর পাবো আশা করছি। (আর তা হচ্ছে) আমাদের বন্দরগুলোকে অবরোধ মুক্ত করার বিষয়ে’।
উল্লেখ্য, রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়ই বিশ্বের গম সরবরাহকারী প্রধান দুটি দেশ। তবে মস্কো ২৪ ফেব্রুয়ারি তার প্রতিবেশী দেশে হামলা চালানোর পর খাদ্যের মূল্য বেড়েই চলেছে এবং আন্তর্জাতিক খাদ্য সংকট শুরু হয়েছে।
মূলত যুদ্ধের কারণে কিয়েভের রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেছে, কয়েক ডজন জাহাজ বন্দরগুলোতে আটকা পড়েছে। এমনকি ইউক্রেনের ওডেসা বন্দরের গুদামে প্রায় ২০ কোটি টন শস্য আটকা পড়ে আছে।
