আবহাওয়ার চরম রূপ তাপ গম্বুজে

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২২, ১০:২২ পিএম

বিশ্বের বহু দেশের মানুষকে ভয়ংকর দাবদাহে পুড়তে হচ্ছে। কোথাও লড়াই করতে হচ্ছে দাবানলের সঙ্গে। আবার কিছু এলাকায় অতি বৃষ্টির কারণে ডুবেছে আকস্মিক বন্যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিল্প যুগের গোড়া থেকে জীবাশ্ম জ্বালানি পুড়িয়ে আসা মানুষ বায়ুমণ্ডলে কার্বন গ্যাসের ভারসাম্য নষ্ট করে ফেলেছে, বদলে যাওয়া বায়ুমণ্ডল ধরে রাখছে অতিরিক্ত উত্তাপ। সেই উত্তাপ আবার বিশ্বের সব জায়গায় সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ছে না, গম্বুজের মতো হয়ে একটি অঞ্চলে আটকে থাকছে। যার পরিণতি হচ্ছে আবহাওয়ার এই অস্বাভাবিক, চরম রূপ। জলবায়ুর পরিবর্তন যে চারভাবে আমাদের চেনা আবহাওয়াকে বিরূপ করে তুলছে, তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে বিবিসির এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়েছে, চরম আবহাওয়ার চারটি রূপই আমরা বিশ্বের নানা প্রান্তে একই সঙ্গে প্রত্যক্ষ করছি। ১৯ জুলাই যুক্তরাজ্যের তাপমাত্রা ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠে যায়। এ রকম তীব্র দাবদাহের প্রবণতা সাম্প্রতিক সময়ে অন্তত দশ গুণ বেড়েছে এবং ভবিষ্যতে অবস্থা এর চেয়েও বাজে হতে পারে।

লন্ডন ইমপেরিয়াল কলেজের জলবায়ু বিজ্ঞানী অধ্যাপক ফ্রেডরিকে অটো বলছেন, আগামী কয়েক দশকের মধ্যে গ্রীষ্ম একেবারে দুর্ধর্ষ হয়ে উঠতে পারে। দাবদাহ যে শুধু আরও উষ্ণ হয়ে উঠছে, তা নয়, এর স্থায়িত্বও বাড়ছে। গত ৫০ বছরে দাবদাহের স্থায়িত্ব দ্বিগুণ হয়ে গেছে। আবহাওয়ার আরেকটি দশায় দাবদাহ আরও দীর্ঘস্থায়ী এবং আরও বেশি তীব্র হয়ে উঠতে পারে। সেই পরিস্থিতিকে বলা হয় ‘হিট ডোম’ বা তাপ গম্বুজ।

কোনো একটি অঞ্চলের বাতাস যখন গরম হয়ে ওপরের দিকে উঠতে থাকে, তখন সেখানে বায়ুমণ্ডলে উচ্চচাপ বলয় তৈরি হলে সেই চাপে গরম বাতাস আবার নিচে নেমে আসে। এক এলাকায় আটকা পড়ে গিয়ে সেই গরম বাতাস ঘনীভূত হয় এবং আরও তপ্ত হয়ে ওঠে। এ রকম পরিস্থিতিতে আস্ত একটা মহাদেশজুড়ে তীব্র দাবদাহ দেখা দিতে পারে। আবহাওয়া এ রকম হলে সবকিছু হঠাৎ থমকে যায়। তাতে ওই চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া একটি অঞ্চলে আটকে থাকতে পারে কয়েক দিন; গত বছর ভারতে এমন অবস্থা দেখা গিয়েছিল। আর চলতি বছর অঞ্চলভেদে তা এখনো চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত