রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের ডাইনিংয়ে ছাত্রলীগের চাঁদাবাজির খবর প্রকাশিত হবার পর থেকে অভিযুক্তদের নানামুখী চাপে আতঙ্কে রয়েছেন হলের ডাইনিংয়ের বাবুর্চি, ম্যানেজার ও কর্মচারীরা।
গত বুধবার দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকায় 'ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি হলের ডাইনিংয়েও' শিরোনামে খবর প্রকাশ হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়টির কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের সভাপতি এস এম সজীব হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে হলটির ডাইনিং কর্মচারীদের রুমে ডেকে বিভিন্ন ভাবে ভয় দেখানোসহ তাদের কাছ থেকে দিনভর নানান কৌশলে চাঁদাবাজির সাথে তাদের (অভিযুক্ত) সম্পৃক্ততা নেই মর্মে স্বীকারোক্তি নেওয়ার চেষ্টা চালায়। তবে কর্মচারীরা এ সংশ্লিষ্ট কোনো স্বীকারোক্তি দিবেন না বলে জানান।
প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, হলের ছাত্রলীগ সভাপতি সজীব ও সাধারণ সম্পাদক আরিফ ডাইনিং থেকে প্রতিমাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা চাঁদা নেয়, যার ফলে হলের খাবারের মান দিনদিন খারাপ হচ্ছে। খবর প্রকাশের পর বুধবার একাধিকবার ডাইনিংয়ের ম্যানেজার, বাবুর্চি ও কর্মচারীদের সভাপতি সজীবের কক্ষে (২১৯-বি ব্লক) যেতে দেখা গেছে। সে সময় কক্ষে সাধারণ সম্পাদক আরিফও উপস্থিত ছিলেন। এসময় তাদের বিভিন্ন ভাবে ভয় দেখানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
হলের এক কর্মচারী জানান, খবর প্রকাশের পর থেকে হলের ডাইনিং সংশ্লিষ্টদের রুমে নিয়ে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সাংবাদিকদের কাছে তাদের চাঁদাবাজির তথ্য কে ফাঁস করলো সেটি বের করার জন্য সবাইকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে। এবং অভিযুক্তদের চাঁদাবাজিতে সম্পৃক্ততা না থাকার স্বীকারোক্তি সাক্ষর নিতে ডাইনিং কর্মচারীদের দিনভর বিভিন্নভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ পাওয়া গেলে গণমাধ্যমকর্মীদের অনুসন্ধানে এর সত্যতা মিলেছে।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীরা ডাইনিংয়ের একটি কক্ষে প্রবেশ করলে সেখানে ডাইনিং কর্মচারীদের উপস্থিতিতে সভাপতি সজীবকে উক্ত স্বীকারেক্তিমূলক কাগজটিসহ দেখা যায়। এসময় গণমাধ্যমকর্মীরা কাগজটি পড়ে দেখলে সজীব কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন এবং স্থান ত্যাগ করেন। এরপর সন্ধ্যা পর্যন্ত এরকম বিভিন্নভাবে কর্মচারীদের কাছ থেকে স্বীকারোক্তি নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে গেছেন অভিযুক্তরা। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ সম্পর্কিত কোন স্বীকারোক্তি কর্মচারীদের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
জানতে চাইলে ডাইনিংয়ের কর্মচারীরা বলেন, ভাই অনেক চাপে আছি। কেউ সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে দেখলে আমাদের বিপদ বাড়বে। দয়া করে আমাদের বিপদে ফেইলেন না।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সভাপতি সজীব মুঠোফোনে সাংবাদিককে বলেন, স্বাক্ষর করার জন্য আমরা কাউকে চাপ প্রয়োগ করিনি। তাদের সম্মতিতেই স্বাক্ষর নেয়ার চেষ্টা করছি। আর বুধবার আমি সারাদিন রুমেই ছিলাম না। তাদের কখনো আমি আমার রুমে ডাকিনি।
আর সাধারণ সম্পাদক আরিফ বলেন, এসব আপনারা মিথ্যা নিউজ করতেছেন। বারবার প্রেসার দিচ্ছেন কেন? আমরা ডাইনিংয়ের কাউকেই কোন প্রেসার দিচ্ছি না।
ডাইনিংয়ের কর্মচারীদের নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে হলের সহকারী প্রভোস্ট শেখ মো. মাসুম বলেন, ডাইনিংয়ের স্টাফরা বিষয়টি আমাদের জানিয়েছে। আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সেটা অবগত করেছি। তারা যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টাফ। সেহেতু কর্তৃপক্ষ অবশ্যই তাদের নিরাপত্তা দেবে।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. হারুন-উর-রশিদ সুমন দেশ রুপান্তরকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোন ধরনের সমস্যা সমাধানে প্রশাসন সবসময় প্রস্তুত।
উল্লেখ্য, শাখা ছাত্রলীগের এই নেতাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও হল পরিদর্শনে আসা সহকারী প্রভোস্টের উপর চড়াও হয়েছিলেন হলটির ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম সজীব হোসাইন। প্রশ্ন তুলেছিলেন তাকে না জানিয়ে কেন হলে আসা হলো। এনিয়ে বিভিন্ন পত্রিকার খবর প্রকাশ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের শোকজ মুখোমুখি হতে হয় তাকে, জানা যায় এনিয়ে ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি। আর করোনা কালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির সেকেন্ড গেট এলাকায় এক দোকানে চাঁদা দাবী করে পত্রিকার খবরে আসেন হলটির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান।
