বিয়েবাড়িতে ঢুকে পুলিশের বেধড়ক পিটুনি, আহত ১০

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২২, ০৬:৪০ পিএম

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় বিয়েবাড়িতে প্রবেশ করে পুলিশের হামলায় অন্তত দশজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার রাত ১২টার দিকে উপজেলার ধানকাঠি ইউনিয়নের চরমালগাঁও ভাদুরীকান্দি গ্রামের সরদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে এক বৃদ্ধার আঘাত গুরুতর বলে জানা গেছে।

আহতরা হলেন শরীয়তপুর সদর উপজেলার মাকশাহার গ্রামের ভিক্ষুক সুলতান খার স্ত্রী পেয়ারা বেগম (৬০), চরমালগাঁও ভাদুরীকান্দি গ্রামের মো. শরীয়াতুল্লাহ সরদার (২৬), শামীম ব্যাপারী (১২), আমানুল্লাহ সরদার (৩৫), চৈতি আক্তার  (২৪), মীম আক্তার (১৪), স্বপ্না আক্তার (১৫), সুমী আক্তার (১৪) নাম পাওয়া গেছে।

আহতদের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) চরমালগাঁও ভাদুরীকান্দি গ্রামের জয়নাল মল্লিকের মেয়ে নুপুর আক্তারের (১৮) বিয়ে। বুধবার (৩ আগস্ট) রাতে নুপুরের গায়েহলুদ ছিল। গায়েহলুদ শেষে রাত ১২টার দিকে চার তরুণী সাউন্ড বক্সের তালে নাচ করছিলেন। ডামুড্যা থানার এসআই ফোয়াদ হোসেনসহ কনস্টেবল বশিরুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমান পুলিশের পিকআপ থেকে নেমে হঠাৎ বিয়েবাড়িতে প্রবেশ করে গাছের ডাল দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকেন। এ সময় বিয়েবাড়ির লোকজন বলে পেটাচ্ছেন কেন? তখন পুলিশ বলে সাউন্ড বক্স বাজাস কেন? এ সময় আঘাতে দশজন আহত হয়।

তারা বলেন, এ ছাড়া বিয়েবাড়ির প্লাস্টিকের বেশ কয়েকটি চেয়ার ভেঙে ফেলে পুলিশ। পরে আহতদের স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। রাত দেড়টার দিকে ডামুড্যা থানার এসআই সজল কুমার পালসহ পাঁচজনের পুলিশের একটি দল বিয়েবাড়িতে গিয়ে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

আহত পেয়ারা বেগম বলেন, দাঁড়িয়ে আমার ভাতিজির গায়েহলুদের অনুষ্ঠান দেখছিলাম। হঠাৎ পেছন থেকে আমাকে লাঠি দিয়ে বেশ কয়েকটি আঘাত করা হয়। আমি মাটিতে পড়ে যাই। পরে দেখি পুলিশ। আমি হাঁটতে পারছি না, মনে হয় পেছনের হাড় ভেঙে গেছে। আমি এর বিচার চাই।

তিনি বলেন, আমার স্বামী ভিক্ষা করে। চিকিৎসা করার টাকা পাব কোথায়? আমি ব্যথায় মরে যাচ্ছি।

মেয়ের চাচা ফারুক ভান্ডারি ও আহত আমানুল্লাহ সরদার, শামীম ব্যাপারী, চৈতি বলেন, পুলিশ এসে আমাদের সঙ্গে কথা বলে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিতে পারত। তা না করে মারধর শুরু করে, যা অমানবিক। আমরা এর বিচার দাবি করছি।

ধানকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান গোলাম মাওলা রতন বলেন, আমার ইউনিয়নে একটি বিয়েবাড়িতে রাতে সাউন্ড বক্স বাজাচ্ছিল। পুলিশের এসআই ফোয়াদ ও দুজন কনস্টেবল এসে বিয়ে বাড়ির লোকজনকে গাছের ডাল দিয়ে মারধর করে ও চেয়ার ভাঙচুর করে, যা দুঃখজনক। শুধু তাই নয় আমার সঙ্গেও খারাপ আচরণ করেছে ফোয়াদ।

ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমেদ বলেন, রাতে ওই এলাকায় উচ্চ সাউন্ডে বক্স বাজাচ্ছে এমন ঘটনায় ৯৯৯-এ ফোন আসে। পরে আমি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাই। সেখানে পুলিশের সঙ্গে বিয়েবাড়ির লোকজনের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে শুনি। পরে আবার এসআই সজলসহ পাঁচ পুলিশের একটি দল বিয়েবাড়িতে পাঠাই। তারা ঘটনাটি শুনে দুঃখ প্রকাশ ও সমাধান করে চলে আসে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত