চলন্ত বাসে পোশাক শ্রমিককে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

বিবস্ত্র করে বাস থেকে ফেলে দিতে চেয়েছিল ওরা!

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২২, ০৫:০৮ পিএম

গাজীপুরের শ্রীপুরে তাকওয়া পরিবহনের একটি মিনিবাসে এক নারী পোশাক শ্রমিককে ধর্ষণের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সেদিনের সেই ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন ভুক্তভোগী নারীর স্বামী। 

সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার ওই নারীর স্বামী বলেন, আমাকে মারধর করে বাস থেকে নামিয়ে ওরা আমার স্ত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর ওরা আমার স্ত্রীকে বিবস্ত্র করে রাস্তায় ফেলে দিতে চেয়েছিল। মানুষের সামনে বিবস্ত্র অবস্থায় পড়ার লজ্জায় সংঘবব্ধ ধর্ষকদের হাতে পায়ে ধরে কাপড় চেয়ে নেয় ধর্ষণে শিকার ওই নারী পোশাক শ্রমিক। এমনই লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন ধর্ষণের শিকার ওই নারীর স্বামী।

পুলিশ জানিয়েছে, ধর্ষণের শিকার ওই নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ভোক্তভোগী নারীর স্বামী জানান, আমরা গাজীপুর বাইপাস থেকে তাকওয়া পরবহনের একটি মিনিবাসে উঠি। পরে বাসটি বিভিন্ন স্থান থেকে যাত্রী তোলে। এ সময় বিভিন্ন স্থানে যাত্রী নামেও। মাওনা আসার পথে রাজেন্দ্রপুরে সর্বশেষ যাত্রী নেমে পড়ে। এ সময় শুধু যাত্রী হিসেবে আমি ও আমার স্ত্রী ছিলাম বাসে। তবে বাসের স্টাফও ছিল কজন। বাসটি যখন গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি এলাকা অতিক্রম করে তখন আমাকে কজন মিলে বেধম মারধর করতে থাকে। এ সময় আমাদের কাছে থাকা টাকাপয়সা লুট করে তারা। এমন সময় আমার স্ত্রী প্রতিবাদ করলে তাকেও মারধর করে। কিছুক্ষণ পরেই আমার স্ত্রীর সামনেই আমাকে বাস থেকে জোর করে ধাক্কা দিয়ে নামিয়ে দেয়। 

তিনি তার স্ত্রীর বরাত দিয়ে আরও বলেন, বাসে তাকে (তার স্ত্রী) পালাক্রমে ধর্ষণের পর সকল কাপড় খুলে আমার স্ত্রীকে বিবস্ত্র অবস্থায় মহাসড়কের এক অন্ধকার স্থানে ফেলে দিতে চেয়েছিল ধর্ষকরা। কিন্তু আমার স্ত্রী মানুষের সামনে বিবস্ত্র অবস্থায় পড়ার লজ্জায় তাদের কাছে কাকুতি মিনতি করে কাপড়চোপড় চেয়ে নেয়। পরে তাকে রাজেন্দ্রপুর ওভার ব্রিজের কাছে নামিয়ে চলে যায় ধর্ষকদল।

এ দিকে ঘটনার পরেই ভোক্তভোগীর স্বামী পুলিশের সহযোগিতা চাইলে পুলিশ অভিযানে নামে। অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় শনিবার (০৬ আগস্ট) ওই নারীর স্বামী বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানার দরিপাড়া এলাকার আকবর আলী মোল্লার ছেলে রাকিব হোসেন মোল্লা(২৩), নেত্রকোনা সদরের গুপিরঝুপা গ্রামের মৃত সানোয়ার হোসেন খানের ছেলে সুমন খান (২০), ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার কাঁঠালকাচারি গ্রামের মৃত কফিল উদ্দিনের ছেলে সজিব মিয়া (২৩), একই জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার বিলডোলা গ্রামের তোলা মিয়ার ছেলে শাহীন আলম (১৯) ও খুলনার রূপসা থানার মোহাম্মদপুর গ্রামের মৃত নুর আলমের ছেলে সুমন হাসান (২২)। 

শ্রীপুর মডেল থানার ওসি অপারেশন আনিসুল আশেকীন জানান, এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধর্ষণের শিকার নারীর স্বামী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।

শ্রীপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জান জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করে বিস্তারিত জানানো হবে।  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত