ত্রিশালে এক বছরে ১৩০ দুর্ঘটনা, নিহত অর্ধশতাধিক

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২২, ১১:৩২ পিএম

গত এক বছরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশাল অংশে ১৩০টি সড়ক দুর্ঘটনায় অর্ধশতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। একের পর এক প্রাণহানির ঘটনায় এ অংশ ‘দুর্ঘটনার হটস্পট’ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এখানে দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি, কোনোভাবেই থামছে না এ যাত্রা। এখন এ মহাসড়কে চলাচলকারীরা ত্রিশাল অংশে এলেই জপতে থাকেন সৃষ্টিকর্তার নাম।

ফোর লেনের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশাল অংশ এখন মৃত্যুফাঁদ বললেই চলে। ত্রিশাল ফায়ার সার্ভিসের তথ্যনুযায়ী, গত বছরের জুন থেকে চলতি মাস পর্যন্ত ১৩০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের। আহতের সংখ্যা ৩১৭। এর মধ্যে পুরুষ ২২২, নারী ৮১ ও শিশুর সংখ্যা ১২। আর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহতদের মৃত্যুর হিসাব করলে এ সংখ্যাটা হয় অর্ধশতাধিক।

দেশের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত দুর্ঘটনা গত ১৬ জুলাই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশালে কোর্ট ভবন এলাকায় ট্রাকচাপায় প্রাণ হারান জাহাঙ্গীর দম্পতি ও তাদের শিশু সন্তান সানজিদা। ওই সময় সড়কেই অন্তঃসত্ত্বা মায়ের পেট ফেটে ভূমিষ্ঠ হয় এক নবজাতক। এ হৃদয়স্পর্শী ঘটনা সবার মনকে নাড়া দেয়। গণমাধ্যম ও সামাজিক  যোগাযোগ মাধ্যমে ফলাও করে প্রচারের ফলে আলোচনার ঝড় ওঠে। তারপরও মৃত্যুর মিছিল থেমে নেই।

স্থানীয় আজাহারুল ইসলাম বলেন, ফোরলেন সড়ক হওয়ার পর থেকে ত্রিশালে সড়ক দুর্ঘটনা অনেক বেড়ে গেছে। যাদের স্বজন হারায় একমাত্র তারাই জানে স্বজন হারানোর কষ্ট। সড়কে দুর্ঘটনা ঘটলে প্রশাসন প্রতিবারই দুর্ঘটনার কারণ জানিয়েই দায় সারছে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

স্থানীয় রায়হান উদ্দিন নামে আরেকজন বলেন, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবৈধ ভাবে দখল করে ত্রিশালে অংশে রমরমা চলছে বালু ব্যবসা। রাস্তার একপাশ দখল করে ট্রাক ঘণ্টার পর ঘণ্টা বালু ওঠানামা করছে পিচঢালা সড়কে। মহাসড়কে অবাধে চলছে অবৈধ থ্রি হুইলার ও তিন চাকার যান। এ ধরনের অসংখ্য কারণ রয়েছে সড়ক দুর্ঘটনার।

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন (নিসচা) ত্রিশালে সাবেক সভাপতি ইমরান হাসান বুলবুল বলেন, মহাসড়কটি এখন মরণফাঁদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ত্রিশাল থানার ওসি মাইন উদ্দিন বলেন, অনভিজ্ঞ চালক, বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানো ও অসাবধানতাই দুর্ঘটনার মূল কারণ। দুর্ঘটনারোধে বেশ কয়েকবার বাস-ট্রাকের চালক ও শ্রমিকদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক জসিম উদ্দিন বলেন, অদক্ষ চালক,  বেপরোয়া গতি, ওভারলোড, ওভারটেকিং প্রবণতা, গাড়ির চাকার মান ঠিক না থাকা, মহাসড়কে কম গতির গাড়ি চলাচল ও কানেকটিং সড়ক থেকে গাড়ি উঠে আসায় দুর্ঘটনা বাড়ছে। অধিকাংশ গাড়ির চাকা ৬ মাস বা এক বছর পরপর পরিবর্তন করার কথা থাকলেও তা না করায় ব্রেক ধরলেও ঠিকমতো কাজ হয় না। এছাড়া মহাসড়ক  থেকে থ্রি-হুইলার চলাচলের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা বন্ধ না হওয়ায় দুর্ঘটনা ঘটছে।

এদিকে, গত রবিবার সকালে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ত্রিশাল পৌর মেয়রসহ ত্রিশালে মহাসড়কে নিরাপত্তা ও সড়ক দুর্ঘটনারোধে সড়ক নিরাপত্তা কমিটির সভায় সাতটি সিদ্ধান্তের প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত