এনআইডিতে (জাতীয় পরিচয়পত্র) থ্যালাসেমিয়া বাহকের তথ্যসংযুক্তি নিয়ে রুল দিয়েছে উচ্চ আদালত। এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের ওপর শুনানি শেষে গতকাল রবিবার বিচারপতি মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেয়। রুলে জাতীয় পরিচয়পত্রে থ্যালাসেমিয়া সংক্রান্ত বিধান এবং এ নিয়ে তথ্য সংযুক্ত করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, নির্বাচন কমিশন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলকে (বিএমডিসি) রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
গত ৩১ মে এ রিট আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। আবদেনের বরাতে তিনি বলেন, থ্যালাসেমিয়া রক্তের একটি জটিল রোগ। এ রোগ সহজে ভালো হয় না। দেশে ক্রমেই এর প্রকোপ বাড়ছে। একজন থ্যালাসেমিয়া বাহক অন্য থ্যালাসেমিয়া বাহককে বিয়ে করলে সন্তানের আক্রান্ত হওয়া ঝুঁকি আছে। দুজন থ্যালাসেমিয়া বাহকের মধ্যে যদি বিয়ে হয় বা স্বামী-স্ত্রী দুজনই থ্যালাসেমিয়া বহন করে তবে সন্তান গর্ভে আসার ৮ থেকে ১৪ সপ্তাহের মধ্যে কোরিওনিক ভিলাস স্যাম্পল বা এমনিওসেন্টেসিস করে বাচ্চার অবস্থা জানা সম্ভব। বিয়ের আগেই বর এবং কনে থ্যালাসেমিয়ার বাহক কি না রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে জানলে কিংবা দুজন থ্যালাসেমিয়া বাহকের মধ্যে বিয়ে বন্ধ হলে থ্যালাসেমিয়া রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। আবেদনের যুক্তিতে তিনি বলেন, নতুন যারা এনআইডি পাবেন সেখানে থ্যালাসেমিয়ার তথ্য যুক্ত করলে কারও শরীরে থ্যালাসেমিয়া থাকা কিংবা না থাকার তথ্য পাওয়া যাবে। ফলে সংক্রমণ একেবারে কমে আসবে। এর আগে গত ২৫ মে সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিস পাঠান তিনি।
আদালতে আবেদনের পক্ষে ইউনুছ আলী আকন্দ নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায়। অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রোগটি জটিল হলেও নিরাময়যোগ্য। এনআইডিতে থ্যালাসেমিয়া সংক্রান্ত তথ্য থাকলে এ রোগ শতভাগ নিরাময় সম্ভব। সরকার চাইলে এ নিয়ে আইন বা নীতিমালা করতে পারে।’
