ছেলের উৎসাহে ধর্ষকদের বিরুদ্ধে মায়ের লড়াই

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২২, ১০:২৫ পিএম

প্রায় তিন দশক আগে ভারতের উত্তরপ্রদেশের এক নারী টানা ছয় মাস প্রতিবেশী দুই ভাইয়ের ধর্ষণের শিকার হন। সে সময় ওই নারীর বয়স ছিল মাত্র ১২ বছর। এই ধর্ষণের ফলে জন্ম নেয় এক ছেলেশিশু। শিশুটিকে সে সময় দত্তক দেওয়া হয়। তবে ১৩ বছর পর মায়ের কাছে ফিরে আসে ছেলে। এর মধ্যে মায়েরও এক জায়গায় বিয়ে হয়েছিল। তবে ধর্ষণের ঘটনা জানাজানি হওয়ায় সেই স্বামী তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। তারপর আগের ছেলে ও নতুন ঘরের আরেক সন্তানকে নিয়ে চলতে থাকে তার দিন। এর মধ্যে ছেলে তার বাবার পরিচয় জানতে চাপ দিতে থাকে মাকে। তবে মা বরাবর বিষয়টি এড়িয়ে যেতে থাকেন। কিন্তু ছেলের অব্যাহত চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত জানান সত্য ঘটনা।  

এরপরই ধর্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে উৎসাহ দেয় ছেলেটি। গত বছর হয় মামলাটি। দশ দিন আগে পুলিশ এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। আর বুধবার দ্বিতীয় অভিযুক্তকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

উত্তরপ্রদেশের ওই নারী জানান, ১৯৯৪ সালে শাজাহানপুর শহরে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মোহাম্মদ রাজি এবং তার ভাই নাকি হাসান তার প্রতিবেশী ছিল। বাড়িতে একা থাকলেই ওই দুই ভাই দেয়াল ডিঙিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে এই ঘটনা ঘটাত। এর ফলে তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়েন। বিষয়টি তিনি তার পরিবারকে জানান। চিকিৎসকের কাছে গেলে ওই সময়ে বয়স বিবেচনায় গর্ভপাতের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেন। এরপর বাড়ি থেকে দূরে জন্ম নেয় ছেলেটি। পরে তাকে দত্তক দিয়ে দেওয়া হয়। ২০০০ সালে তার বিয়ে হয় আর দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু বিয়ের ছয় বছরের মাথায় তার স্বামী ধর্ষণের কথা জেনে যায় আর সন্তানসহ তাড়িয়ে দেন। ওই নারী তার বোনের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

বিবিসি জানাচ্ছে, ছেলের উৎসাহে ওই নারী ২০২০ সালে ফের শাজাহানপুরে যান। আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আবেদন করেন। শাজাহানপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে অভিযুক্ত দুই পুরুষের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের মার্চে মামলা নেওয়া হয়। তবে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পরও অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ ছিল না। পুলিশ জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে নেওয়া ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল এখন প্রমাণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযুক্তদের একজনের সঙ্গে ছেলেটির ডিএনএ নমুনা মিলেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত