সাদা পোশাকে বিএনপি নেতাকে গ্রেপ্তারে গিয়ে জনরোষে অবরুদ্ধ পুলিশ

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২২, ০৭:১৬ পিএম

গাজীপুরের শ্রীপুরে সাদা পোশাকে বিভিন্ন মামলার আসামি বিএনপি নেতাকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশ জনরোষে পড়ে। স্থানীয়রা তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পৌরসভার কেওয়া পূর্বখণ্ড গ্রামের গারোপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা বলেন, পুলিশের নানা হয়রানির ক্ষোভে তারা অবরুদ্ধ করে রাখেন।

পরিবারের অভিযোগ, ধরতে আসা আসামিকে পুলিশ বেদম মারধর করে। এতে এলাকাবাসী বেশি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

তবে পুলিশের দাবি, সাদা পোশাকের পুলিশের সঙ্গে পোশাকধারী পুলিশ সদস্যও ছিলেন। ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ধরতে গেলে পরিবারের লোকজন পুলিশের সঙ্গে বিতণ্ডা বাধায়। আসামির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার আসামি আবুল কালাম (৪৫) স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত দল ও এলাকাবাসী জানিয়েছে।

অবরুদ্ধ হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন শ্রীপুর মডেল থানার এসআই মোহাম্মদ মামুন ও দুই কনস্টেবল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কয়েকজন সাদা পোশাক পরিহিত লোক স্থানীয় বিএনপি নেতা আবুল কালামকে ধরতে আসেন। পরে তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা পুলিশের পরিচয় দেন। এ সময় কালামের সঙ্গে তাদের তর্ক বাঁধে। এতে সবার সন্দেহ হয় তারা পুলিশের লোক কি না। এক পর্যায় তর্কের ফাঁকে পুলিশ পরিচয়ধারীরা কালামকে মারধর করতে থাকেন। এতে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এক সময় স্থানীয়দের সঙ্গেও বিতণ্ডা বাধলে অবরুদ্ধ করা হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে একটি সেলুনের শাটার বন্ধ করে আশ্রয় নেন পুলিশ সদস্যরা। পরে অতিরিক্ত এসে তাদের উদ্ধার করেন। তারা বলেন পুলিশ বিভিন্ন সময় মামলার ভয় বা গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে মানুষদের হয়রানি করে থাকে। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভের জন্ম হয়েছে।

গ্রেপ্তার আবুল কালামের শ্বশুর আফাজ উদ্দীন মন্ডল বলেন, সাদা পোশাকধারী দুই পুলিশ সদস্য কালামকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা ক্ষিপ্ত হয়। পরে তার স্ত্রী (কালামের) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখতে চাইলে দেখাতে চায়নি। এ নিয়ে আশপাশের মানুষের সন্দেহ হয়।

তিনি আরো বলেন, কালামের নামে বেশ কিছু রাজনৈতিক মামলা রয়েছে তবে সবগুলোতে সে জামিনে রয়েছে।

স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর জিলাল উদ্দীন দুলাল জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি আবুল কালাম ও দুই পুলিশ সদস্য একটি দোকান ঘরে অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন। বাইরে জনতার ঢল। সবাই উচ্চ স্বরে কথা বলছিল। সবার মাঝেই পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ দেখা গেছে। তবে পুলিশ সাদা পোশাকে থাকায় মানুষের মাঝে সন্দেহ বেড়ে যায়।

গ্রেপ্তার আবুল কালামের স্ত্রী পারভীন আক্তার অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামী তার নামের সব মামলায় জামিনে আছে। পুলিশকে সব জানালেও ধরে নিয়ে যায়। প্রতিবাদ করায় পুলিশ আমার স্বামীকে মারধর করেছে। এ সময় এলাকার মানুষ পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে। 

শ্রীপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, নিয়ম মেনেই পুলিশ পরোয়ানাভুক্ত আসামি ধরতে গেছে। এ সময় সাদা পোশাকের পাশে পোশাকধারী পুলিশ সদস্যও ছিল। আসামি ধরতে গেলে তার স্বজনরা স্থানীয়দের নিয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হয়। পুলিশ আসামিকে কোনো প্রকার মারধর করেনি বলে।

তিনি আরো বলেন, আবুল কালামকে গ্রেপ্তারের সময় ফেনসিডিলসহ আরও কিছু মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত