জ্বালানি তেল ও সারের দাম বৃদ্ধির প্রভাব

নরসিংদীর সবজি হাটে ন্যায্য দাম না পেয়ে কৃষক হতাশ

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২২, ১১:৪৩ পিএম

জ্বালানি তেল ও সারের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে নরসিংদীর সবজির পাইকারি বাজারগুলোতে। প্রতি কেজি সবজি পরিবহনে দূরত্বভেদে খরচ বেড়েছে ৩ থেকে ৫ টাকা। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় সবজি কেনায় আগ্রহ কমেছে পাইকারি ক্রেতাদের। ফলে সার ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধির কারণে সবজির উৎপাদন খরচ বাড়লেও ন্যায্য দাম না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, নরসিংদীর সবজির কদর দেশজুড়ে। জেলায় এ বছর সবজির আবাদ হয়েছে ৭ হাজার ৩৬ হেক্টর জমিতে। সবজির চাষ বেশি হয় শিবপুর, মনোহরদী, বেলাব ও রায়পুরা উপজেলায়। উৎপাদিত সবজি বেলাব উপজেলার বারৈচা ও নারায়ণপুর, রায়পুরা উপজেলার জঙ্গি শিবপুর ও মরজাল, শিবপুর উপজেলার শিবপুর, পালপাড়া, যোশর, সৃষ্টিগড় ও কোন্দারপাড়া পাইকারি সবজি হাটে বিক্রি করতে নিয়ে আসেন কৃষকরা। পরে পাইকারি ক্রেতারা স্থানীয় বাজার থেকে সবজি কিনে ঢাকাসহ নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও সিলেট জেলায় পাঠান। ঢাকাসহ আশপাশের কয়েকটি জেলার সবজির চাহিদার একাংশের জোগান আসে এই জেলা থেকে। এমনকি রপ্তানিও হয়। তবে কয়েক দিনে পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর পরিবহন খরচ লাগছে দ্বিগুণ। সঙ্গে যোগ হয়েছে পরিবহন সংকটও। পাইকারি ক্রেতারা বলছেন, পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত খরচের কারণে লোকসানের শঙ্কা বাড়ছে। তাই সবজি কেনায় আগ্রহ কমছে। এ কারণে হাটগুলোতে বিক্রি কমেছে।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থেকে হাটে সবজি কিনতে এসেছেন পাইকারি ক্রেতা ওবায়দুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘আগে ২ হাজার ৪০০ টাকায় গাড়ি ভাড়া দিয়ে সবজি নিয়ে যেতাম। এখন দিতে হচ্ছে ৩ হাজার ৪০০ টাকা। ফলে আমাদের সবজির দামও বাড়াতে হচ্ছে। গাড়ি ভাড়া বাড়ার কারণে সবজির দাম কেজি প্রতি ৩ থেকে ৫ টাকা বেড়েছে।

সরেজমিনে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রায়পুরা উপজেলার গোকুলনগর সবজির হাটে দেখা যায়, আশপাশের গ্রাম থেকে সবজিচাষিরা ভ্যান ও রিকশায় ঝুড়ি ভর্তি বিভিন্ন ধরনের সবজি নিয়ে হাটে জড়ো হয়েছেন। তারা পাইকারি হাটে প্রতি মণ বেগুন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, করলা ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা, কাঁকরোল ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা, বরবটি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, ঢেড়শ ১ হাজার ২০০ থেকে দেড় হাজার টাকা, ঝিঙা ১ হাজার ২০০ টাকা, পেঁপে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি করছেন। এ ছাড়া আকারভেদে একটি লাউ ২৫ থেকে ৪০ টাকা ও চালকুমড়া ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে উৎপাদন খরচের তুলনায় কম দামে সবজি বিক্রি করায় বিপাকে কৃষকরা।

রায়পুরার পীরপুর থেকে হাটে সবজি নিয়ে এসেছেন মেরাজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘সবজির চাষে যে পরিমাণ খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে হাটে সে রকম দাম পাচ্ছি না। হাটে প্রচুর সবজি আছে। কিন্তু পাইকার নেই। এবার ৬০ হাজার টাকা খরচ করে সবজির চাষ করেছি। আর এ পর্যন্ত বিক্রি করেছি ২৫ হাজার টাকা। আমরা এখন সবজি বিক্রি করে ক্ষতির মুখে আছি।’

কাইয়ুম মিয়া নামে আরেক কৃষক বলেন, সার, কীটনাশকসহ কৃষিকাজের প্রতিটি জিনিসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। যার কারণে আমাদের উৎপাদন খরচও বেড়ে গেছে। কিন্তু হাটে সবজি এনে আমরা পাইকারদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্য পাচ্ছি না। ফলে ক্ষতি হলেও কম দামেই সবজি বিক্রি করতে হচ্ছে।’

জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা নাজমুল হক টুটুল বলেন, ‘কৃষকদের দলবদ্ধভাবে বিপণনব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য আমরা কাজ করছি। ৭ থেকে ৮ জন

কৃষক মিলে একটি ট্রাক ভাড়া করে সহজেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় পণ্য পাঠাতে পারবেন। এর ফলে তাদের খরচ কমে যাবে। এ ছাড়া আমরা

কৃষকদের পণ্য পরিবহনের জন্য কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ট্রাকের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি। এটি চালু হলে কৃষকদের দুর্ভোগ অধিকাংশে কমে যাবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত