কারখানার বর্জ্যে বিপন্ন বংশাইয়ের জীববৈচিত্র্য

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২২, ১১:১২ পিএম

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ধেরুয়াতে অবস্থিত নাসির গ্লাসওয়্যার অ্যান্ড টিউব ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কারখানার দূষিত বর্জ্যে কোদালিয়া থেকে হাঁটুভাঙ্গা পর্যন্ত বংশাই নদীর পানি বিষাক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে নদীর ওই অংশে শুষ্ক মৌসুমে পানি কমে গেলে প্রায়ই মাছ মরে ভেসে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা মরে ভেসে ওঠা এসব মাছ সংগ্রহ করে নেয়।

স্থানীয়রা জানায়, ১৯৯৭-৯৮ সালে দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উপজেলার ধেরুয়া এলাকায় প্রায় ৫০ একর জমির ওপর নাসির গ্লাসওয়্যার অ্যান্ড টিউব ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কারখানাটি গড়ে ওঠে। এ কারখানায় গ্লাস থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক বাল্পসহ কাচের বিভিন্ন ধরনের পণ্য তৈরি করা হয়। এছাড়া গত কয়েক বছর ধরে মুরগি ও মাছের খাদ্যও তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু শুরু থেকেই এ কারখানাটিতে ছিল না বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। প্রথম দিকে কারখানাসংলগ্ন এলাকার আবাদি জমিতে বর্জ্য পানি ফেলা হতো। এতে কারখানার তিন দিকে থাকা তিন ফসলি জমির ফসল নষ্ট হতে থাকে। এ দূষিত পানিতে স্থানীয়রা কাজ করতে গিয়ে চর্মরোগসহ নানা ধরনের অসুখে আক্রান্ত হতে থাকে। এতে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হলে কারখানা কর্তৃপক্ষ প্রায় এক কিলোমিটার লম্বা নালা তৈরি করে বর্জ্য পার্শ্ববর্তী বংশাই নদীতে ছেড়ে দেয়।

বছরের পর বছর এভাবেই কারখানার বর্জ্য বংশাই নদীতে ফেলায় নদীর পানি দূষিত হয়ে পড়েছে। এতে এ বছর ওই কোদালিয়া এলাকা থেকে শুরু করে হাঁটুভাঙ্গা ব্রিজসংলগ্ন নদীর প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছে মড়ক দেখা দেয়। বর্ষাকালে নদীতে পানি বেশি থাকায় দূষিত বর্জ্যরে তেমন প্রভাব না পড়লেও শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি কমে গেলে প্রায়ই ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে ভেসে ওঠে।

পার্শ্ববর্তী সলিমনগর গ্রামের বাসিন্দা শাহ আলম সিকদার জানান, কারখানা থেকে অর্ধকিলোমিটার দূরত্বে নদীর কোদালিয়া খেয়াঘাট এলাকায় এবং এর পশ্চিম পাশে পাইপের মাধ্যমে দূষিত বর্জ্য নদীতে ফেলা হয়। এখন মাঝেমধ্যে নদীর মাছ মরে ভেসে ওঠে। তার ধারণা, কারখানায় যখন বিশেষ ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় তখনই ওই বর্জ্য নদীর পানিতে এসে মিশে মাছসহ জলজ প্রাণী সব মরে ভেসে ওঠে।

হাঁটুভাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেন ও সলিমনগর গ্রামের হাজি সোহরাব হোসেন বলেন, নাসির গ্লাস কারখানার দূষিত বর্জ্যে মাঝেমধ্যেই বংশাই নদীর বিভিন্ন প্রজাতির ছোট-বড় মাছ মরে ভেসে ওঠে। নদীর তীরে ভেসে আসা মরা মাছ এলাকাবাসী তুলে নেয়।

কোদালিয়া ও হাঁটুভাঙ্গা এলাকায় দেখা গেছে, নাসির গ্লাস কারখানার বর্জ্য পাইপের মাধ্যমে পড়ছে বংশাই নদীতে। এ ব্যাপারে জানতে নাসির গ্লাসওয়্যার অ্যান্ড টিউব ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কারখানার এজিএম জয়নাল আবেদীনকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

টাঙ্গাইল জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জমির উদ্দিন বলেন, পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত