সাভারের আশুলিয়ায় এক ইউপি সদস্যকে গ্রেপ্তারের সংবাদ প্রকাশের জেরে সোহেল রানা (২৫) নামে এক সাংবাদিককে বেধড়ক মারধর করে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
রবিবার (১৪ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে সাভার উপজেলা পরিষদে এ ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষা পেতে ওই সাংবাদিক দৌড়ে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষে আশ্রয় নেন।
খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত সাংবাদিক সোহেল রানাকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তবে, অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়েমুল হুদা বলেন, হামলার শিকার সাংবাদিকের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী সোহেল রানা জানান, রবিবার দুপুরে তিনি সংবাদ সংগ্রহের কাজে সাভার উপজেলা পরিষদে যান। সে সময় কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ২০-২৫ জন দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। এক পর্যায়ে হামলাকারীরা তাকে ছুরি দিয়ে হত্যার চেষ্টা করলে তিনি আত্মরক্ষার জন্য দৌড়ে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষে আশ্রয় নেন। হামলাকারীরাও উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবনের ভেতরে অবস্থান নেয়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি সাভারের আশুলিয়ায় একটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ছেলেকে মারধর এবং মা-মেয়েকে শ্লীলতাহানীর ঘটনায় পাথালিয়া ইউপি সদস্য শফিউল আলম সোহাগসহ আট জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় সংবাদ প্রকাশ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ইউপি সদস্যের ভাই সাবেক থানা ছাত্রলীগের সভাপতি সামিউল আলম শামীম ও তার অনুসারীরা। তারা বিভিন্ন সময়ে ফোনে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুমকি দেয়। রবিবার সকালে বিষয়টি জানিয়ে সাভার মডেল থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার শফিউল আলম সোহাগ জামিনে বের হওয়ার পরই সোহাগ ও তার ভাই শামীমের অনুসারীরাই তার ওপর হামলা চালায়।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মাঈনুল ইসলাম বলেন, হামলার খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এসময় ওই সাংবাদিককে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষ থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিষয়টি তদন্ত করে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা পরিষদের ভেতরে সাংবাদিকের ওপর হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম বলেন, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং নিন্দনীয় ব্যাপার। অতীতে দেশের উপজেলা পরিষদে এমন ঘটনা ঘটার কোনো তথ্য নেই। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
