বার্সেলোনা ত্রয়ীর কথা মনে আছে! মেসি-নেইমার-সুয়ারেজ। চলতি শতাব্দীর গত দশকের আলোচিত ছিলেন তারা। তাদের বন্ধনটাও ছিল অটুট। এই ত্রয়ীর পায়ের জাদুতে কত জয়ের গল্পই না লেখা আছে ন্যু ক্যাম্পে। ফুটবল ভক্তদের কাছেও যেন আদর্শ হয়ে উঠেছিল তাদের বন্ধুত্ব। একসঙ্গে তিন তারকা একদলে থাকায় স্প্যানিশ এই ক্লাবটিও ছিল ফর্মের তুঙ্গে। পিএসজির সঙ্গে নেইমারের রেকর্ড ট্রান্সফারে সতীর্থতার বিচ্ছেদ হয়। পরে সুয়ারেজও চোখের জল ঝরিয়ে বিদায় জানান এই ক্লাবকে। তিনজনের কেউ এখন আর নেই এ ক্লাবে।
ক্লাব ছাড়লেও তাদের বন্ধুত্বে কখনও ফাটল ধরা পড়েনি। মেসির সঙ্গে এতটাই ভালো বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল নেইমারের, যার প্রমাণ ফুটবল জাদুকরের পিএসজির জার্সির গায়ে জড়ানো। এই দলেও মেসি-নেইমারের বাইরে আরেক তারকা আছেন। তিনি কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাকে নিয়ে আরেকটি ত্রয়ী বন্ধনের আশা জেগেছিল ফুটবল সমর্থকদের মনে। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার দুই উজ্জ্বল নক্ষত্রের সঙ্গে উরুগুয়ের ফুটবল তারকার যে বন্ধন সেটা ফরাসি ফুটবলারের সঙ্গেও দারুণ হবে, এমনটাই প্রত্যাশা ছিল সবার।
.jpg)
কিন্তু সে প্রত্যাশার যেন গুড়েবালি! গত শনিবার রাতেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এমবাপ্পের সঙ্গে বাকি দুজনার দূরত্ব। তাই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক এর নেপথ্যে কি? সেদিন রাতে পার্ক দে প্রিন্সেসে ফরাসি লিগ ওয়ানে প্রথমার্ধের শেষদিকে একটি পাল্টা আক্রমণের সময় ভিতিনহা এমবাপ্পেকে খুঁজে না নিয়ে লিওনেল মেসিকে পাস দেন। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান তিনি। পিএসজি সমর্থকদের অনেকেই এই আচরণকে অসৌজন্যমূলক বলে খোঁচা দিতেও ছাড়েননি।
শুধু এই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াই নয়। সেই রাতেই ম্যাচের ২৩ মিনিটে পেনাল্টি পেয়েছিল পিএসজি। লিওনেল মেসি ও নেইমারের মতো দুজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় থাকতে সেই পেনাল্টি নিলেন এমবাপ্পে। তবে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন ফরাসি এই স্ট্রাইকার। যেভাবে ব্যর্থ হয়েছিলেন গত বছর ইউরোর দ্বিতীয় রাউন্ডের টাইব্রেকারে। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে সেদিন ফ্রান্সের সবাই গোল করেছিল। শেষ শটটির জন্য এসেছিলেন এমবাপ্পে। কিন্তু তিনি মিস করলে হার নিয়ে ফিরতে হয় ফরাসিদের। সেই ধারা যেন পিএসজিতেও চলমান।
প্যারিস সেইন্ট জার্মেইনে নেইমারের সঙ্গে এমবাপ্পের সম্পর্ক কেমন হবে সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল গত মে মাসের শেষ দিকে। কারণও আছে অবশ্য! যদিও অনেকে সেটাকে গুঞ্জন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। সব গুঞ্জন সত্যি কিনা বলা মুশকিল, তবে পিএসজি যে কিছু সুবিধা এমবাপ্পেকে দিয়েছে, তা বোঝা গেল পরশু রাতে লিগে মঁপেলিয়ের বিপক্ষের ম্যাচে। পেনল্টি কিক থেকে শুরু করে মেসিকে পাস দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ। এগুলো যেন সব গুঞ্জনকে সত্যি বলে প্রমাণ করে দিচ্ছে।
.jpg)
বার্সেলোনা ত্রয়ীর মতো পিএসজিতেও ত্রয়ী বন্ধন হচ্ছে না কেন? এমন প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। মেসি-নেইমার আর সুয়ারেজ এত ভালো বন্ধু হলে এমবাপ্পের সঙ্গে কেন হচ্ছে না? এমন প্রশ্ন আসাটাও অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু কেন আর্জেন্টাইন ও ব্রাজিলিয়ানের সঙ্গে এই ফরাসি ফুটবলারের দুরত্ব তা অনেকে বুঝে উঠতে পারছেন না।
সেটা বুঝতে হলে অবশ্য ফিরতে হবে মে মাসের সেই গুঞ্জনে। বলেছিলাম কারণ আছে, সেই কারণ খোলাসাই করি। বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য কিলিয়ান এমবাপ্পের রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার শোরগোল উঠেছিল। আলোচনাও হয়েছিল দুই পক্ষের। কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদে ‘যাই যাই’ করেও শেষ পর্যন্ত পিএসজিতে থেকে গেলেন এমবাপ্পে। ফরাসি স্ট্রাইকারকে ধরে রাখতে নতুন চুক্তিতে তাঁকে বিশাল ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে বলেও ফুটবল বিশ্বে গুঞ্জন ছিল। পিএসজির কোচ নিয়োগে প্রভাব খাটাতে পারবেন এমবাপ্পে, কোন খেলোয়াড়কে দলে নেওয়া হবে আর কোন খেলোয়াড়কে বিক্রি করা হবে, ভূমিকা রাখতে পারবেন সেই ব্যাপারে। এমন সব ক্ষমতা নাকি দেওয়া হয়েছে এমবাপ্পেকে। এমনও শোনা গিয়েছিল, তিনি নেইমারকে আর দলে চান না। এই ক্ষমতাই নাকি পিএসজিতে ত্রয়ী বন্ধন মজবুত হয়নি বলে ধারণা করা যায়।
.jpg)
শনিবার রাতে এমবাপ্পের প্রথম পেনাল্টি নেওয়া নিয়ে নেইমার বা কোচ ক্রিস্তফ গালতিয়ের ম্যাচ শেষে কোনো কথা বলেননি। তবে অনেকের কাছেই এটা স্পষ্ট হয়েছে, পিএসজিতে এখন পেনাল্টি নেওয়ায় অগ্রাধিকার এমবাপ্পের। এক ফুটবলপ্রেমী বিষয়টি নিয়ে পিএসজির সমালোচনা করে টুইট করেন।
@নেইমারগিয়াবিআর নামের আইডি থেকে করা টুইটি এ রকম, ‘এটা অফিশিয়াল, এমবাপ্পেই এখন পিএসজির হয়ে পেনাল্টি নেবেন। স্পষ্টতই, এটা চুক্তির বিষয়। কারণ, বিশ্বের কোনো ক্লাবেই নেইমার পেনাল্টি নেওয়ার জন্য দ্বিতীয় পছন্দ হতে পারে না।’টুইটটি এখানেই শেষ করেননি ওই ফুটবলপ্রেমী। তিনি আরও লিখেছেন, ‘দেখে মনে হচ্ছে, এটা চুক্তি নবায়নের বিষয়। এমবাপ্পে পিএসজিকে নিজের মনে করে!’ টুইটটি নজরে পড়েছে নেইমারের। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড তাঁর ভেরিফায়েড টুইটার থেকে এই টুইটে ‘লাইক’ও দিয়েছেন।
