শ্লীলতাহানির অভিযোগ ধামাচাপা দিতে ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে চিকিৎসকের চাঁদাবাজি মামলা

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২২, ০৭:২৯ পিএম

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বড়তাকিয়া চক্ষু হাসপাতালে মো. জসীম উদ্দিন নামে এক ডাক্তারের বিরুদ্ধে এক নার্সকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। ওই নার্স মিরসরাই থানায় জসীম উদ্দিনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিলে সোমবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিয়ে মামলা হয়। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠায়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, হাসপাতালের মালিক জসীম উদ্দিন ৬ আগস্ট তাকে নিজের কক্ষে ডেকে পাঠান। এ সময় হাসপাতাল প্রায় লোকজন শূন্য ছিল। তিনি মালিকের কক্ষে গেলে জসীম হঠাৎ দরজা বন্ধ করে দিয়ে জোরপূর্বক তাকে চুমু দেয় এবং জড়িয়ে ধরে শ্লীলতাহানি করে। সে কক্ষ থেকে দৌড়ে বের হয়ে বিষয়টি তার খালাতো ভাই নুর হাসান ও তার প্রতিবেশী মিরসরাই উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাসুদ করিমকে ঘটনা জানান। ঘটনার পর হাসপাতালের মালিক জসীম উদ্দিন হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রাম শহরে চলে গিয়ে গত শনিবার (১৩ আগস্ট) হাসপাতালে আসেন। জসীম হাসপাতালে আসার খবর পেয়ে নার্সের খালাতো ভাই নুর হাসান, মাসুদ করিমসহ কয়েকজন গিয়ে জসীমের সাথে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করে। কিন্তু বিষয়টি সমাধানের ব্যর্থ হলে তারা ওই নার্সকে আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার পরামর্শ দেয়।
 
ওই নার্স বলেন, তিনি অভিযোগ নিয়ে থানায় আসার আগেই জসীম উদ্দিনের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাসুদ করিমসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। 

ভুক্তভোগী নার্স জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করতে চেয়েছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে কেউ চাঁদা চায়নি। শ্লীলতাহানির ঘটনা ধামাচাপা দিতে ওই অভিযোগ করা হয়েছে।
 
অপরদিকে, চাঁদাবাজির মামলায় জসিমের স্ত্রী সাবিনা ইয়াছমিন অভিযোগ করেন, পূর্বপরিকল্পিত ভাবে শেখ তুরিন, ইউছুফ, মাসুদ করিম, আবির, সোহেল, হাসান তার স্বামীকে জোরপূর্বক হাসপাতালের একটি কক্ষে আটকে রাখে। তারা হাসপাতালের অভ্যার্থনা ডেস্কে থাকা এক নার্সকে তার স্বামীর সাথে জড়িয়ে বিভিন্ন কথা বলে এবং ৩০ লাখ টাকা দেনমোহরের বিনিময়ে বিয়ে করতে চাপ দেয়। বিয়ে না করলে ঘটনার মীমাংসার জন্য সাত লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

মিরসরাই উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সদ্যঘোষিত চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মাসুদ করিম অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, হাসপাতালের মেয়েটি শ্লীলতাহানির বিষয়ে তাকে জানালে তিনি কর্তৃপক্ষের সম্মতিতে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করেছিলেন। এখন উল্টো তার বিরুদ্ধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগ তুলছে।
 
এ ব্যাপারে খইয়াছড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য গোপাল চৌধুরী জানান, শ্লীলতাহানির শিকার ওই মেয়েটি তার ওয়ার্ডের বাসিন্দা। কিন্তু তিনি ঘটনাটি ওই মেয়ের কাছে জেনেছেন সোমবার রাতে। তখন বিষয়টি নিয়ে এতই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে তার কিছু করার ছিল না। তবে হাসপাতালে চাঁদাবাজি অভিযোগের বিষয়টি সত্য নয় এবং তাকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিছু জানায়নি।

মিরসরাই থানার ওসি কবির হোসেন জানান, বড়তাকিয়া চক্ষু হাসপাতালের একটি ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষই দুইটি মামলা করেছে। শ্লীলতাহানির অভিযোগ হাসপতাাল মালিক জসীম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। দুইটি অভিযোগই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত