হালদা-কর্ণফুলীতে অস্বাভাবিক জোয়ার

ছয় দিন ধরে পানিবন্দি হালদাপাড়ের ৮ গ্রাম

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২২, ১২:০৬ এএম

প্রচন্ড রোদ আর গরম। শ্রাবণের ভরা বর্ষাতেও নেই কোনো বৃষ্টি। অথচ যেন বন্যার ঢল বয়ে যাচ্ছে রাউজানের নোয়াপাড়া ও উরকিরচর ইউনিয়নের আটটি গ্রামে। হালদা নদী তীরবর্তী এ দুই অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের এখন অনেক দুঃখ। জোয়ারে তলিয়ে যাওয়ার দুঃখটা এসব গ্রামবাসীর অনেক দিনের।

গত ছয়দিন ধরে উরকিরচর ও নোয়াপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম, ছোট-বড় অসংখ্য সড়ক, স্কুল-মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান হালদা এবং কর্ণফুলী নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে তলিয়ে আছে। বন্ধ হয়ে আছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। ওপর দিয়ে পানির স্রোত গড়িয়ে যাওয়ায় গ্রামীণ উপ-সড়ক ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলোও ভেঙে খান খান হয়ে যাচ্ছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘরের আঙিনায় ঢুকে পড়েছে পানি।

ছয়দিন আগের রাতে ‘হালদা ও কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের পানি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় তলিয়ে আছে নোয়াপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম কচুখাইন জেলেপাড়া, মোকামীপাড়া, পশ্চিম নোয়াপাড়া গ্রাম। স্বাভাবিকের চেয়ে ৫-৬ ফুট বেশি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এখানকার গুরুত্বপূর্ণ মোকামীপাড়া সড়কসহ স্থানীয় সড়কগুলো পানির তোড়ে ভেঙে গেছে। জোয়ারের পানি একবার উঠলে তিনঘণ্টার বেশি থাকে। এতে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ইটের ডাবল সলিং ভেঙে যাওয়ায় হাঁটু ও তারও বেশি পরিমাণ পানিতে হেঁটেও যাতায়াত সম্ভব হয় না। উরকিরচর এলাকার বাসিন্দা সমাজসেবক আবুল কাশেম হিরু ও তরুণ সমাজকর্মী সাইফুদ্দিন আত্তারী বলেন, ‘ছয়দিন ধরে পূর্ণিমার জোয়ারের পানিতে বন্দি আছে উরকিরচর ইউনিয়নের ৫-৬ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। ইউনিয়নের মূল সড়ক ‘উরকিরচর সড়ক’ স্থানীয় বিভিন্ন উপ-সড়ক, উরকিরচর হাই স্কুল, উরকিরচর গাউছিয়া সুন্নিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা, সওদাগরপাড়া, বাড়িঘোনা, স্থানীয় মসজিদ, ক্লাবসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘরের আঙিনা কয়েক ফুট পানিতে ডুবে আছে। কোনো কোনো স্থানে কোমরসমান পানি। এ অবস্থায় এলাকাবাসীকে প্রতিদিন ৪-৫ ঘণ্টা পানিতে ঘরবন্দি হয়ে থাকতে হচ্ছে। এসময় সড়ক বা অন্য কোনো স্থান দিয়ে কোথাও যাওয়া-আসার উপায় থাকে না। এতে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা, বাজার-কেনাকাটা করা, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন পেশা-শ্রেণির মানুষের দুর্ভোগের সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত