মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বাবা

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২২, ১২:২৯ এএম

কুষ্টিয়া মিরপুরের বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী উম্মে ফাতেমাকে (১৪) অপহরণ করে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চেয়ে মামলা করে এখন প্রাণভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন পিতা খন্দকার সাইফুল ইসলাম। অভিযোগ রয়েছে, এ ঘটনার শুরু থেকেই শুধু একজনকে জড়িত দাবি করে মামলাটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত হয় মিরপুর থানা পুলিশ। অবশেষে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মামলাটির তদন্ত করে লোমহর্ষক দলবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যায় জড়িত ছয়জনকে শনাক্তসহ ঘটনার রহস্য উন্মোচন করে। জড়িত অপরাধীরা মামলার বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দিলে থানায় জিডি করেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে।

খন্দকার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মামলার আগে-পরে প্রতিটি ক্ষেত্রে মিরপুর থানা পুলিশ আমার কোনো কথাই গ্রহণ করেনি। আমি মামলার এজাহারে জড়িত সন্দেহে আসামিদের নাম দিতে চাইলেও তা আমলে না নিয়ে অজ্ঞাতপরিচয়দের বিরুদ্ধে এজাহার লিখে ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমার স্বাক্ষর নেয়। অবশেষে পুলিশ সদর দপ্তরের হস্তক্ষেপে মামলার তদন্তভার সিআইডিতে দেওয়ার পর অভিযোগের সত্যতা বেরিয়ে আসছে।’

ওই ছাত্রীর মা কুমকুম বেগম বলেন, ‘মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে এখন আমাদের জীবন চরম ভয়ের মধ্যে পড়ে গেছে। আমরা প্রাণভয়ে নিজের ঘরে ঘুমাতেও পারছি না।’ ফাতেমার প্রতিবেশী মিলি খাতুন বলেন, ‘প্রতিদিন পালা করে পাহারা দিয়ে কেউ ঘুমায়, কেউ জেগে থাকি। থানায় জিডি করলেও পুলিশ এক দিনও এসে খোঁজ নেয়নি।’

স্থানীয় পৌর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আপন মোল্লা বলেন, ‘ফাতেমা হত্যার শুরু থেকেই পুলিশ বিতর্কিত ভূমিকা রেখেছে। এখন মামলা সিআইডি তদন্ত করায় সবকিছু বেরিয়ে আসছে।’

সিআইডির তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক গৌতম চন্দ্র মালি বলেন, ‘মামলার শুরুতেই একমাত্র আসামিকে আদালতে জবানবন্দি দিয়ে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে ফাতেমাকে অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যাকা-ে পাঁচ-ছয়জন জড়িত ছিল। ইতিমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

মিরপুর থানার ওসি গোলাম মোস্তফা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ফাতেমা হত্যা মামলার বাদী হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে জানিয়ে যে জিডি করেছেন, সেটি আদালতে পাঠিয়েছি। আদালতের আদেশ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে পুলিশ।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত