তারেকের ফাঁসি হলেই আত্মার শান্তি, কষ্টে থাকা মাহাবুবার খোঁজ রাখেন না নেতারা

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২২, ১০:৫৪ পিএম

অনেকতো হলো, আর বেশিদিন হয়তো বাঁচবো না। শেষ ইচ্ছা হিসেবে একটাই প্রার্থনা গ্রেনেড হামলার মূলহোতা তারেক রহমানকে লন্ডন থেকে দেশে এনে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে ফাঁসির মঞ্চ করে দ্রুত ফাঁসি কার্যকর করা হোক। তাহলে গ্রেনেড হামলায় আমরা যারা আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরন করেছি এবং নিহত ২৪ জনের আত্মা কিছুটা হলেও শান্তি পাবে। নিজের সোনালী অতীতের কথা জানিয়ে কান্নাজড়িত কন্ঠে কথাগুলো বলছিলেন ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে সন্ত্রাসবিরোধী জনসভায় নিয়ে গ্রেনেড হামলায় আহত স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেত্রী মাহাবুবা পারভিন।

 
অত্যন্ত দুঃখের সাথে তিনি বলেন, আমাদের মন্ত্রী মহোদ্য়কে (ডা. এনামুর রহমান) মেসেজ পাঠিয়েছিলাম আমি পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যেতে চাই জানিয়ে, কিন্তু সেই ম্যাসেজ এর কোনো উত্তর পাইনি। আমার নেত্রী প্রধানমন্ত্রী তাকে বলেছেন, আমার দিকে খেয়াল রাখার জন্য। তারপরও আমি তাকে মেসেজ পাঠিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারিনি।

image 

মাঝে মধ্যেই রাতের বেলা আমার ব্যাথা ও যন্ত্রণা শুরু হয়। নেত্রী চিকিৎসার জন্য পিজি হাসপাতালে কার্ড করে দিয়েছেন। কিন্তু রাত ২টার দিকে যদি আমার ব্যাথার যন্ত্রণা শুরু হয় তাহলে আমি কীভাবে হাসপাতালে যাবো। রাতের বেলায় তো ভাড়ায় ট্যাক্সিক্যাবও পাওয়া যায় না। এছাড়া আমি বেশকিছুদিন ধরে চোর-ডাকাতের উৎপাতে রাতে ঘুমাতে পারি না। বাসায় গেট নাই, সিড়ির রেলিং লাগাতে পারিনি। কখন কোনদিক দিয়ে চোর ঢুকে পড়ে এজন্য রাত জেগে পাহারা দিই। জরুরি ভিত্তিতে আমার বাড়িতে একটা গেট দেয়া দরকার।
 
আমি হুইল চেয়ারে ছিলাম, হার্ট অ্যাটাকের রোগী, বাম পাশটা প্যারালাইজড, ডায়াবেটিসের রোগী। হেঁটে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে গিয়ে মাথা ঘুরে নিচে পড়ে যাই। মাঝে মাঝে সিআরপিতে থেরাপি নিতে যেতে হয়, কিন্তু যাতায়াতের নিজস্ব ব্যবস্থা না থাকায় বর্তমান সরকারের একজন কর্মী হয়েও ইচ্ছেমতো চিকিৎসা নিতে পারি না। ২০০৪ সালের ২১ আগষ্টে গ্রেনেড হামালায় আহত হওয়ার পর থেকে সাভারের কোনো আওয়ামী লীগ কিংবা স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতা আমার খোঁজ খবর নেয়নি। অথচ সাভারে এখন হাজার হাজার নেতার উৎপত্তি হয়েছে। তারা নিজেদের আখের গুছিয়ে জিরো থেকে কোটিপতি হয়ে গেছে।
  
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর স্বার্থবাদী ও অর্থলোভী নেতারা দলের নাম ভাঙ্গিয়ে বাড়ি, গাড়ি ও সম্পদের পাহাড় গড়েছে। আমি মাহাবুবা পারভিন নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করেছি। আপনারা তদন্ত করে দেখতে পারেন। দুঃখের বিষয় বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে আমি এখনও ধুকে ধুকে জীবন পার করছি। কিন্তু স্বার্থবাদী এবং অর্থলোভী নেতারা আমার বিশ্বাস ভঙ্গ করে দিয়েছে।

image

তাই প্রধানমন্ত্রীকে আমি অনুরোধ করবো, এখন আমি আর পারছি না। যেহেতু মাঝে মধ্যেই আমাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যেতে হয় এবং আমি ঢাকা জেলা উত্তর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে আমার যে কর্মস্থল বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ সেখানে যেতে হয়। তাই তারা কাছে করজোড়ে অনুরোধ করছি আমার বাড়িতে নিরাপত্তার জন্য গেট এবং সিড়িতে রেলিং দেয়ার পাশাপাশি যাতায়াতের একটা ব্যবস্থা করে দেবেন। কারণ সাভারের স্বার্থবাদী ও অর্থলোভী নেতারা চোখে কাঠের চশমা পরে বসে আছে। তারা কখনও আমার খোঁজ নেয় না। আমি কেমন আছি? প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আমার মতো দুঃখিনীকে দেখার কেউ নেই। গ্রেনেড হামলায় আহত হওয়ার পর যা কিছু পেয়েছি সব তার কাছ থেকেই পেয়েছি। তার কারণেই আজও আমরা বেঁচে আছি।
 
প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট সন্ত্রাসবিরোধী জনসভায় অংশগ্রহণ করেন মাহাবুবা পারভীন। সেদিন প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য শেষে ঠিক যখনই জয় বাংলা বলে শ্লোগান দিবেন ঠিক সেই মুহুর্তেই প্রাণঘাতি গ্রেনেড বিস্ফোরিত হতে থাকে। চলে গুলিবর্ষণও। আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চে সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও দুর্নীতিবিরোধী সমাবেশে চালানো হামলায় প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের স্ত্রী নারী নেত্রী আইভী রহমানসহ ২৬ জন নিহত হয়। আহত হয় কয়েকশ মানুষ। আহতদের মধ্যে যারা বেঁচে আছেন শরীরে অসংখ্য গ্রেনেডের স্প্লিন্টার নিয়ে প্রতিনিয়ত মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছেন তারাও। অনেকেই আবার চিরদিনের মতো পঙ্গু হয়ে গেছেন। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া মাহাবুবা শরীরে ১৮০০ স্প্লিন্টার নিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। তার বাম হাত এখনও অচল, চোখে কম দেখেন, ডান কানে কম শোনেন, তার শরীরের চামড়ার ভেতরে ঘা হয়ে গেছে। কষ্ট হলেও মাহাবুবা পারভীন এখনও মাঝে মধ্যেই দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত