নিখোঁজ সুকন্যাকে উদ্ধারে পুলিশ সহায়তা করছে না

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২২, ০২:২২ এএম

সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজের নিখোঁজ শিক্ষার্থী ইয়াশা মৃধা সুকন্যাকে (১৮) উদ্ধারে পুলিশ কোনো সহায়তা করছে না বলে অভিযোগ করেছেন সুকন্যার মা নাজমা ইসলাম লাকী। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন তিনি।

তবে পুলিশ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মিশু বিশ^াস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা মেয়েটিকে উদ্ধারের জন্য নানাভাবে তদন্ত করছি। সে যে রিকশায় উঠেছিল তার চালককে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। ক্লোজ সার্কিট (সিসি) টিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করছি।’

সুকন্যার মা লাকী অভিযোগ করে বলেন, “পুলিশ আমাদেরকে পাঁচ দিন ধরে শুধু থানায় বসিয়ে রেখেছে, আর বলেছে, ‘তদন্ত করছি আপনারা বসে থাকেন’। এভাবে পুলিশের কাছে কয়েক দিন চলে যায় কিন্তু আমরা কিছু জানতে পারিনি। একপর্যায়ে আমাদের আর কোনো সহযোগিতা করেনি।”

গত ২৩ জুন কলেজে মডেল টেস্ট দিতে গিয়ে নিখোঁজ হন সুকন্যা। মা লাকীর অভিযোগ, সুকন্যার কথিত প্রেমিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইসতিয়াক আহমেদ চিশতী মজুমদার সুকন্যার খোঁজ জানেন। এ ঘটনায় করা মামলার তদন্তে কোনো অগ্রগতি না দেখে হতাশা ব্যক্ত করেন লাকী। বিচার না পেলেও শুধু মেয়েকে জীবিত ফেরত চান তিনি।

লাকী বলেন, ‘আমার ফোনে মেসেজ আসে, আমার মেয়েকে নাকি কখনো মিরপুর-১, কখনো মিরপুর-১০, আবার কখনো মিরপুর-১৪ নম্বরে দেখা গেছে। আমরা সেখানে গিয়ে কোনো খোঁজ পাইনি। সংশ্লিষ্ট থানা থেকেও বলছে এ ধরনের মেয়েকে এলাকায় ঘুরতে দেখা যায়নি।’ তিনি বলেন, ‘তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলছেন আমার মেয়ের নাকি মানসিক সমস্যা। অথচ ইসতিয়াক আমার মেয়েকে নিয়ে গেছে, সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজেও সেটা দেখেছি। সেও বলেছে আমার মেয়ের সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করেছে। মেয়েকে কী করেছে, কোথায় দিয়েছে সে বিষয়টি বলছে না।’

লাকী আকুতি জানিয়ে বলেন, ‘আমি আমার মেয়েকে জীবিত অবস্থায় শুধু ফিরে পেতে চাই। কোনো বিচার চাই না, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে চাই না।’

উল্লেখ্য, সুকন্যা নিখোঁজের দিন গত ২৩ জুন তার মা রমনা মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ২৪ জুন সুকন্যার ছেলেবন্ধু ইসতিয়াক ও ইসতিয়াকের বন্ধু সালমানকে পুলিশ আটক করে। পরদিন দুজনকে আসামি করে অপহরণ মামলা করেন সুকন্যার মা। দুই দফা রিমান্ড শেষে গত শুক্রবার ইসতিয়াককে কারাগারে পাঠানো হয়। সালমান জামিনে মুক্তি পান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত