রাজধানী তুরাগে এক নারীকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলার শিকার হয়েছেন একুশে টেলিভিশনের সংবাদ উপস্থাপক সাব্বির আহমেদ ও তার ছোট ভাই ইমন হোসেন শান্ত। দুজনকে উত্তরার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তুরাগ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, রোববার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় তুরাগের ধউর উত্তরণ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
তিনি বলেন, আমরা এ ঘটনার তদন্ত করছি। একুশে টেলিভিশন সংবাদ উপস্থাপক সাব্বির আহমেদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি ইস্ট ওয়েস্ট মেডিকেল হাসপাতালে ছোট ভাইসহ ভর্তি আছেন। তিনি অভিযোগ দিতে আজকে তুরাগ থানায় আসবেন। অভিযোগ পাওয়ার পরই অপরাধীদের ধরতে মাঠে নামবো।
হামলার শিকার সাব্বির আহমেদ দেশ রূপান্তরকে জানান, রোববার সন্ধ্যায় বাসার সামনে ধউর উত্তরণ প্রজেক্ট এলাকায় ছোট ভাইকে নিয়ে হাঁটতে বের হই। কিছু দূর সামনে দুটি ছেলে দুইটি মেয়েকে উত্ত্যক্ত করছিল। মেয়েরা অসহায়ের মত বার বার আমাদের দিকে তাকাচ্ছিলো। আমি আর আমার ভাই নরমালি ওই ছেলেদের সঙ্গে কথা বলে মেয়েদেরকে সরিয়ে দেই। তখন মেয়ে দুটো চলে যায়। এরপর সবকিছু স্বাভাবিকই ছিল। মিনিট পাঁচেক পর ২০-২৫ জন পেছন থেকে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা সবাই পাগলের মতন আমাদেরকে মারতে থাকে। আশেপাশে এত লোকজন থাকা সত্ত্বেও কেউ আমাদের সাহায্য করছিল না।
এ সময় হামলাকারীরা বিল্ডিং কনস্ট্রাকশনের বাঁশ খুলে আমার ছোট ভাইয়ের মাথায় আঘাত করে। সম্ভবত সেই বাঁশে লোহা জাতীয় কিছু ছিল। এতে আমার ছোট ভাই ইমন গুরুতর আহত হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এসময় হামলাকারীরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা আমার ছোট ভাই ও আমাকে ইস্ট ওয়েস্ট মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। ছোট ভাই ইমনকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ইমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে।
সাব্বির আরও বলেন, হামলাকারী কয়েকজনকে আমি চিনতে পেরেছি। তারা ধউর ও নয়ানগরের উঠতি বয়সী কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। প্রত্যেকের বয়স ১৬-১৭ বছরের মধ্যে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।
