সিলেটের ওসমানীনগরে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাবা ও দুই সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় ফরেনসিক প্রতিবেদন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের মৃত্যু অক্সিজেন স্বল্পতায় হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন।
বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. শামসুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে মৃত্যুর এ কারণ পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, জেনারেটরের ধোঁয়া থেকে তাদের মৃত্যু হয়েছে ধারণা করা হচ্ছে। খাদ্যে বিষক্রিয়া বা কোনও পক্ষ তাদের হত্যা করতে পারে- এমন কোনও আলামত পাইনি। তবে বিদ্যুৎ না থাকায় ঘটনার দিন ওই বাসার জেনারেটর টানা কয়েক ঘণ্টা চলেছে। তারা যে ঘরে ছিলেন ওই ঘরে কোনও ভেন্টিলেটরও ছিল না। ধারণা করছি, বদ্ধ ঘরে ধোঁয়ায় তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তারপর মৃত্যু হয়েছে।
জানা গেছে, ওসমানীনগরের ধিরারাই গ্রামের রফিকুল ইসলাম যুক্তরাজ্য থেকে সপরিবারে দেশে ফেরেন গত ১২ জুলাই। প্রায় এক সপ্তাহ ঢাকায় অবস্থানের পর ১৮ জুলাই ওসমানীনগরের তাজপুর স্কুল রোডে চারতলা বাসার দোতলায় ভাড়াটিয়া হিসেবে ওঠেন রফিকুল ইসলামের পাঁচ সদস্যের পরিবার। ২৫ জুলাই রাতের খাবার খেয়ে একটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন তারা। অপর দুটি কক্ষে শ্বশুর, শাশুড়ি, শ্যালক ও তার স্ত্রী মেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে আত্মীয়রা ডাকাডাকি করলে রফিকুলদের কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে ৯৯৯-এ কল দেন শ্যালক দিলওয়ার।
খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে ওসমানীনগর থানা পুলিশের একটি দল গিয়ে দরজা ভেঙে অচেতন অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা রফিকুল ইসলাম ও তার ছোট ছেলে মাইকুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্ত্রী হোসনে আরা, বড় ছেলে সাদিকুল ইসলাম ও একমাত্র মেয়ে সামিরা ইসলামকে হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। রফিকুলের স্ত্রী হোসনে আরা ও ছেলে সাদিকুল সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও ১১ দিন আইসিইউতে থাকা অবস্থায় সামিরা ৫ আগস্ট মারা যান।
