মাত্র ৯ সেকেন্ডেই ভেঙ্গে পড়লো দানবীয় টুইন টাওয়ার (ভিডিও)

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২২, ০৪:২১ পিএম

নয় সেকেন্ডেই অতীত ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের নয়ডার জোড়া বহুতল! ধুলোর ঝড় তুলে নিমেষে ধসে পড়ল একের পর এক তলা। নয় বছরের আইনি লড়াইয়ের পর নিশ্চিহ্ন সুপারটেকের যমজ বিল্ডিং। ভবনটি ধ্বসে পড়ার পর প্রায় ১৫ মিনিট ধরে ধ্বংসাবশেষ থেকে ধুলা উড়ে। বিধ্বস্ত ভবনের এলাকায় প্রায় ৫৫ হাজার টন আবর্জনা তৈরি হয়। এগুলো পরিষ্কার করতে তিন মাস সময় লাগতে পারে।

ঘড়ির কাঁটা মিলিয়ে রবিবার দুপুর আড়াইটায় বাজল সাইরেন। এর পর শুরু উল্টো করে গোনার পালা। নয়, আট, সাত, ছয়, পাঁচ... শূন্যে পৌঁছতেই ধুলোর মেঘ তুলে গায়েব জোড়া বহুতল।

গ্রেটার নয়ডা এক্সপ্রেসওয়ের ধারে জোড়া বহুতলের বিভিন্ন টাওয়ারে ঠাসা হয়েছিল ৩,৭০০ কেজির বিস্ফোরক। তা দিয়েই উড়িয়ে দেওয়া হল অ্যাপেক্স এবং সিয়েন- সুপারটেকের দুই বহুতল।

দুটি ভবনের স্তম্ভে প্রায় ৭ হাজার ছিদ্রের ভেতর বিস্ফোরক ঢোকানো হয়। ২০ হাজার সার্কিট স্থাপন করা হয়। বিস্ফোরণের পর স্তম্ভগুলো সোজাসুজি নিচে পড়ে। একে বলা হয় ‘ওয়াটারফল টেকনিক’।

পলকেই অ্যাপেক্সের ৩২তলার সঙ্গে মিলিয়ে গেল সিয়েনের ২৯তলা। মোট ১০০০ ফ্ল্যাটের জোড়া বহুতল। অ্যাপেক্স ভবনটি ১০৩ মিটার এবং সিয়েন ভবনটি ৯৭ মিটার দীর্ঘ ছিল।

রবিবারের এই চরম মুহূর্তকে পরিণতি দিতে প্রস্তুতি ছিল তুঙ্গে। জোড়া বহুতল ভাঙার আগে থেকে এবং পরে, সওয়া ২টো থেকে ২টো ৪৫ মিনিট পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল গ্রেটার নয়ডা এক্সপ্রেসওয়ে। ছিল ৫০০ পুলিশকর্মীর কড়া পাহারা।

বিস্ফোরণের পর নয়ডার আকাশ ঢাকা পড়েছিল ধুলোর চাদরে। ধুলোর ঝড়ে আশপাশের দৃশ্যমানতা কমে যায়।

বিস্ফোরণের প্রস্তুতি হিসাবে আগে থেকেই জোড়া বহুতলে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল আশপাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদেরও।

এই জোড়া বিল্ডিং ঘিরে বিতর্ক কম ছিল না। ১৪টি টাওয়ার-সহ নয়টি তলার নকশায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। পরে সেই নকশায় বদল ঘটিয়ে প্রতিটি তলে ৪০টি করে ফ্ল্যাট গড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু অভিযোগ ওঠে ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (এনবিসি)-এর নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এর নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান প্রতিটি টাওয়ারে ৪০ তলা নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিল। একটি টাওয়ার থেকে অন্যটির দূরত্ব কমপক্ষে ১৬ মিটারের বদল ৯ মিটারেরও কম।

এ নিয়ে মামলা-মোকদ্দমার জল গড়ায় ইলাহাবাদ হাই কোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। চলতি বছরের ১২ অগস্ট সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, ২৮ অগস্ট টুইন টাওয়ার ভেঙে ফেলতে হবে। তা-ই পরিণতি পেল রবিবার।

২০০৫-এ সেক্টর ৯৩এ-তে ১৪টি অট্টালিকা বানানোর অনুমতি পেয়েছিল সুপারটেক নির্মাণ সংস্থা। অট্টালিকাগুলির উচ্চতা ৩৭ মিটারের মধ্যে হতে হবে, এমন নির্দেশ দিয়েছিল নয়ডা প্রশাসন।

২০০৬-এ আরও জমি দেওয়া হয় নির্মাণ সংস্থাকে। ২০০৯ সালে স্থির করা হয়, আরও দু’টি অট্টালিকা বানাবে সুপারটেক। তার মধ্যে একটি হল অ্যাপেক্স, অন্যটি সিয়েন। ২৪ তলা পর্যন্ত এই যমজ অট্টালিকা বানানো হবে বলে স্থির করা হয়। কিন্তু অভিযোগ, নিয়ম ভেঙে সেই অট্টালিকা ৪০ তলা করা হয়। আর এখান থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত।

এমারল্ড কোর্ট ওনার্স রেসিডেন্টস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন এই বেনিয়মের বিরুদ্ধে ইলাহাবাদ হাই কোর্টে মামলা করে। অভিযোগ তোলা হয়, নির্মাণকারী সংস্থা উত্তরপ্রদেশ অ্যাপার্ট ওনার্স অ্যাক্ট, ২০১০-এর লঙ্ঘন করেছে। শুধু তাই-ই নয়, যেখানে বাগান করা হবে বলে দলিলে দেখানো হয়েছিল, সেই জায়গাতেই অট্টালিকা গড়ে তোলা হয়। নির্মাণ আইন অনুযায়ী, যেখানে দু’টি অট্টালিকার দূরত্ব ৩৭ মিটার হওয়া উচিত, সেখানে ১৬ মিটার দূরত্বে অ্যাপেক্স এবং সিয়েনকে নির্মাণ করা হয়েছে।

২০১২-র ডিসেম্বর থেকে এই যমজ অট্টালিকা নিয়ে আইনি লড়াই শুরু হয়েছিল। ইলাহাবাদ হাইকোর্ট ঘুরে সুপ্রিম কোর্টে সেই মামলা পৌঁছয়। অবশেষে যমজ অট্টালিকা ভাঙার নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত