কুষ্টিয়ায় শোক সভায় আ. লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ২০

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২২, ০৯:১৬ এএম

কুষ্টিয়ায় শোক সভায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় উভয় পক্ষের ২০ জন আহত হয়েছেন। আহত ১০ জন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে বলে হাসপাতাল সূত্রে নিশ্চিত করেছে।

রোববার (২৮ আগস্ট) বিকেল ৫টায় সদর উপজেলার শঙ্করদিয়া বাজারে ১৪নং গোস্বামী দুর্গাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আয়োজনে জাতীয় শোক দিবস অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। এসময় সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতাসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। 

পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের মধ্যে বিবদমান দ্বন্দ্ব চলে আসছিলো। শোক সভা শুরু হওয়ার পর গোস্বামী দুর্গাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক লাল্টু রহমান তার অনুগত নেতাকর্মীদের নিয়ে মিছিলসহ আলোচনা সভায় আসেন। ঘটনার সময় দুপক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে তর্কাতর্কি ও হাতাহাতির এক পর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় হামলা-পাল্টা হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাসহ দু’পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়। পরে আহতদের মধ্যে গুরুতর ১০ জনকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

আহতদের মধ্যে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান ঝেন্টুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এবিষয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দবির উদ্দিন মোবাইল ফোনে জানান, অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরা আসন গ্রহণের পর শোক সভা শুরু হয়। বর্তমান চেয়ারম্যান লাল্টু রহমান শতাধিক লোকজনসহ মিছিল নিয়ে আসেন। তাদের অনেকের কাছে দেশীয় অস্ত্র ছিল। তারা এসেই আমার সমর্থক ও দলীয় নেতাকর্মীর ওপর হামলা করে। 

তবে হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে বর্তমান চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা লাল্টু রহমান দাবি করেন, তার লোকজনের ওপর দবিরের লোকজন হামলা চালিয়েছে। এতে ৫ থেকে ছয়জন আহত হয়েছেন। আমার তিন ভাইয়ের মাথা ফেটে গেছে। নেতাদের সামনেই হামলা করেছে। আমরা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেছি মাত্র। 

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম জানান, আগস্ট মাস উপলক্ষে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ইতিমধ্যে পর্যায়ক্রমে শোক সভা সম্পন্ন হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে রোববার ১৪নং গোস্বামী দুর্গাপুর ইউনিয়নে শোক সভার নির্ধারিত দিন ছিল। এসময় স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে পূর্ব থেকেই বিদ্যমান দ্বন্দ্বের জেরে ঝামেলা হয়। তবে তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত করে সভা শেষ করা হয় বলে দাবি করে এই নেতা জানান, বিষয়টি আমাদের জন্য বিব্রতকর। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) আননুর যায়েদ বলেন, রোববার বিকেলে শোকসভা চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা হয়েছে। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত