পোশাকের দৈর্ঘ্য মাপলে সন্তানের বিয়েতে গায়েহলুদ কেন, প্রশ্ন শিক্ষামন্ত্রীর

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২২, ০৯:২০ এএম

নরসিংদী রেলস্টেশনে পোশাকের কারণে তরুণীকে হেনস্তা প্রসঙ্গে উচ্চ আদালতের বক্তব্যকে অভিবাদন জানিয়ে সম্প্রতি কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কিছু শিক্ষার্থী মানববন্ধন করায় তীব্র সমালোচনা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

তিনি বলেন, বিশ্ব এখন এগিয়ে যাচ্ছে, আমরা এখন রোবোটিক্স সায়েন্স নিয়ে কথা বলবো, আমরা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে কথা বলবো; এখন নারীর পোশাকের দৈর্ঘ্য নিয়ে কথা বলার সময় নয়। কপালে টিপ আছে, কি নেই— এটা নিয়ে প্রশ্ন হতে পারে না।

সোমবার (২৯ আগস্ট) সচিবালয়ে শিক্ষাবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন এডুকেশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (ইরাব) সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। 

মধ্যপ্রচ্যে মুসলমানরাও উলুধ্বনি দেয় উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের এই ভূখণ্ডে সনাতন ধর্মের মানুষরা উলুধ্বনি দেয়, এগুলো সাংস্কৃতি অনুসঙ্গ। এখানে বিয়েতে, গায়ে হলুদে যা হয়, এটা কি মুসলিম বিয়ের কোনও অংশ, বলেন? কবুল পড়া, সাক্ষ্য দেওয়া ও দোয়া পড়া ছাড়া মুসলিম রীতিতে বিয়ের অংশে আরতো কিছু নেই। 

যারা ইসলাম-ইসলাম করে পাগল করে ফেলছেন, এইটার দৈর্ঘ্য এত হতে হবে, এইটার প্রস্থ এত হতে হবে— এটা নিয়ে যারা বলেন, আমরাতো দেখি তাদের ছেলে-মেয়ের বিয়েতে গায়ে গলুদ থেকে সবই হচ্ছে।

এগুলো সংস্কৃতির অংশ উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সংস্কৃতি মানবো, কিন্তু টিপ পরা, ছেলে-মেয়েদের গান শেখা, কবিতা আবৃত্তি করা মানবো না— এটা তো দ্বিচারিতা। সমাজে এই দ্বিচারিতাকে কারা প্রমোট করছে, সেটি আমরা সবাই জানি। আমরা মুখ ফুটে বলি না। আমি যদি আমার সমাজে অসাম্প্রদায়িকতা চাই, আমি যদি সবার অধিকার চাই, সবার কথা বলার অধিকার চাই, সবার স্বাধীনভাবে চলার অধিকার চাই; তাহলে এটার সঙ্গে ওই কূপমন্ডুকতা, কুসংস্কার ও পশ্চাৎপদতা একসঙ্গে যায় না।

দীপু মনি বলেন, আমি গণতন্ত্র বলব; গণতন্ত্র মানে যদি হয় ওই ধর্মকে অপব্যবহার করে মানুষের ওপর অত্যাচার নির্যাতন করা, পূজার সময় গিয়ে প্রতিমা ভেঙে দিয়ে আসা, তাহলে আমাদের ওই রকম গণতন্ত্রের মধ্যে জীবনযাপন করতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত