চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।
বুধবার গভীর রাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্যাতনের অভিযোগগুলো বিশ্বাসযোগ্য এবং মানবতার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অপরাধের বিষয়টি প্রমাণ করে। খবর বিবিসি, আলজাজিরার।
প্রতিবেদনটি তৈরি করতে প্রায় এক বছর লেগেছে। চীন প্রতিবেদনটি প্রকাশ না করার জন্য জাতিসংঘকে আহ্বান জানিয়েছিল। বেইজিং এই প্রতিবেদনকে পশ্চিমাদের সাজানো একটি ‘প্রহসন’ বলে অভিহিত করেছে।
তবে, চিলির প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ও জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট প্রতিবেদনটি প্রকাশে বদ্ধপরিকর ছিলেন।
তিনি বলেন, আমি বলেছিলাম যে আমার মেয়াদকাল শেষ হওয়ার আগেই আমি এটি প্রকাশ করব এবং আমি তা করেছি।
প্রতিবেদনে উইঘুরের মুসলিম এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের আটকে রাখার অভিযোগ তোলা হয়েছে চীনের বিরুদ্ধে। যদিও বেইজিং এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের সন্ত্রাস দমন এবং ‘উগ্রবাদ-বিরোধী’ কৌশল প্রয়োগের প্রেক্ষাপটে জিনজিয়াংয়ে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। তথাকথিত ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারে রাখা লোকদের চিকিৎসার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
তাতে বলা হয়েছে, যৌন এবং লিঙ্গ-ভিত্তিক হিংসা, জোরপূর্বক চিকিৎসা, জোর করে আটকে রাখা, নির্যাতন বা বিরূপ আচরণের অভিযোগগুলো বিশ্বাসযোগ্য। আইন ও নীতি অনুসারে উইঘুর এবং অন্যান্য প্রধান মুসলিম গোষ্ঠীর সদস্যদের প্রতি এই স্বেচ্ছাচারী এবং বৈষম্যমূলক আচরণ মৌলিক অধিকারগুলোর লঙ্ঘন। এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ, বিশেষ করে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।
জিনজিয়াংয়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ উইঘুরের বাস, যাদের বেশির ভাগই মুসলিম।
এর আগে বেশ কয়েকটি দেশ জিনজিয়াংয়ে চীনের পদক্ষেপকে গণহত্যা বলে অভিহিত করেছে।
রিপোর্টে বেইজিং, জাতিসংঘ এবং বিশ্বকে জিনজিয়াংয়ের পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ‘জিনজিয়াংয়ের মানবাধিকার পরিস্থিতির প্রতি বিভিন্ন দেশের সরকার এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও বিস্তৃতভাবে জরুরি মনোযোগ প্রয়োজন।’
