দোষীদের খুঁজে বের করা কিংবা কোনো অপরাধের ঘটনার সুরাহা করতে আঙুলের ছাপকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। এবার সে আঙুলের ছাপ নিয়েই জালিয়াতি করার দায়ে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্য পুলিশ। অপরাধকর্মের জন্য কুয়েত থেকে বিতাড়িত হওয়া প্রবাসীদের আবারও সে দেশে পাঠাতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আঙুলের ছাপ পরিবর্তনে কাজ করছিলেন ওই দুই ব্যক্তি।
পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার হওয়া এ দুজন রাজস্থান ও কেরালায় আঙুলের ছাপ পরিবর্তনে অন্তত ১১টি অস্ত্রোপচার করেছেন। এর জন্য তারা জনপ্রতি নিয়েছেন ২৫ হাজার টাকা করে। অস্ত্রোপচার করে নিজেদের আঙুলের ছাপ পরিবর্তন করিয়েছেন এমন দুজন ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা কুয়েত থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর আবারও কুয়েত যাওয়ার চেষ্টায় এ কাজ করেছিলেন। অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত চিকিৎসা উপকরণ এবং আরও কিছু আলামতও জব্দ করা হয়েছে।
গত সোমবার মালকাজগিরি অঞ্চলের বিশেষ অভিযান পরিচালনাকারী দল এবং ঘাটকেসার পুলিশ যৌথভাবে একটি অভিযান চালায়। অভিযানে গ্রেপ্তার হন ওই চারজন। তাদের নাম গাজ্জালা কন্ডুগারি নাগা মুনেশ্বর রেড্ডি, সাগাবালা ভেঙ্কাত রামানা, বোভিলা শিব শঙ্কর রেড্ডি এবং রেন্ডলা রামা কৃষ্ণ রেড্ডি।
ওয়াইএসআর কাডাপা জেলার কৃষ্ণ ডায়াগনস্টিকসে রেডিওলজিস্ট ও এক্স-রে টেকনিশিয়ান হিসেবে নিযুক্ত আছেন গাজ্জালা কন্ডুগারি নাগা মুনেশ্বর রেড্ডি। তার বয়স ৩৬ বছর। আর ৩৯ বছর বয়সী সাগাবালা ভেঙ্কাত রামানা তিরুপাথির ডিবিআর হাসপাতালের অ্যানেসথেশিয়াবিষয়ক টেকনিশিয়ান। ২৫ বছর বয়সী বোভিলা শিব শঙ্কর রেড্ডি এবং ৩৮ বছর বয়সী রেন্ডলা রামা কৃষ্ণ রেড্ডি কুয়েতে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। পুলিশ বলছে, আঙুলের ছাপ পরিবর্তনের জন্য আঙুলের ওপরের দিকের অংশ কেটে টিস্যুর অংশবিশেষ সরিয়ে তাতে আবার সেলাই দেওয়া হয়। এক-দুই মাসের ভেতর ক্ষত সেরে যায় এবং এক বছরের মতো আঙুলের ছাপের ধরন বদলে যায়। যারা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আঙুলের ছাপ পরিবর্তন করিয়েছেন, তারা ভারতের পরিচয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থার (আধার) আওতায় পরিবর্তিত ছাপটি হালনাগাদ করে নেন। নতুন ঠিকানাও যুক্ত করেন তারা। এরপর কুয়েতের জন্য নতুন ভিসার আবেদন করেন। এভাবেই আঙুলের ছাপ পরিবর্তন করে ভিসা থেকে শুরু করে বিভিন্ন জালিয়াতি করছে অনেকে।
