দেশে প্রতি বছর নতুন প্রায় তিন হাজার লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। পাশাপাশি এ রোগে দুই হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। লিউকেমিয়া আক্রান্ত রোগীরা সাধারণত রক্ত স্বল্পতা, দুর্বলতা, রক্তপাত, জ্বর এসব উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসকের কাছে আসেন।
গতকাল রবিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) বিশ্ব লিউকেমিয়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের হেমাটোলজি বিভাগ এ সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হেমাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. সালাহউদ্দীন শাহ।
ক্যানসার গবেষণার আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদন ‘গ্লোবোক্যান-২০২০’ তুলে ধরে চিকিৎসকরা বলেন, বিশ্বে নতুন করে লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ এবং তিন লাখের বেশি মৃত্যু হয়েছে।
সেমিনারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, লিউকেমিয়ার ধরন অনুসারে চিকিৎসা ভিন্ন হয়ে থাকে। লিউকেমিয়া অ্যাকিউট ও ক্রনিক এ দুই ধরনের। ধরনভেদে চিকিৎসাও আলাদা। রোগ নির্ণয়ের পর রোগের ঝুঁকির পর্যায় বিবেচনা করে রোগীর চিকিৎসা পরিকল্পনা করা হয়। সিবিসি, পিবিএফ ফ্লো সাইটোমেটি, বোন ম্যারো পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা হয় এবং সাইটোজেনেটিক ও মলিকিউলার পরীক্ষার মাধ্যমে রোগীর ঝুঁকির স্তর সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। মুখে খাবার ওষুধ, কেমোথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি, ইমিউনোথেরাপি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে রেডিয়েশন থেরাপির মাধ্যমে রোগের চিকিৎসা করা হয়।
তারা আরও জানান, রোগ মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ওষুধের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং প্রয়োজনে ওষুধের ডোজ পরিবর্তন করা হতে পারে। ক্রনিক লিউকেমিয়া চিকিৎসায় সিএলএল ও সিএমএল চিকিৎসায় টার্গেটেড থেরাপি বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দিয়েছে। এসব ওষুধের অধিকাংশই এখন দেশেই পাওয়া যায়। রোগের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে প্রয়োজনে হেমাটোপয়েটিক সেল ট্রান্সপ্লান্টেশন বা বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টেশনের মাধ্যমে রোগের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা সম্ভব। উচ্চঝুঁকির অ্যাকিউট লিউকেমিয়ার চিকিৎসায় হেমাটোপয়েটিক সেল ট্রান্সপ্ল্যান্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘লিউকেমিয়া রোগীর রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা সম্পর্কে রোগী, রোগীর স্বজন ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। সব রোগী যাতে সহজে জরুরি চিকিৎসাসেবা, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং চিকিৎসার অন্যান্য উপকরণ সুলভে পেতে পারেন তা নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়াও রোগ নির্ণয় ও ঝুঁকি নির্ণয়ের সর্বাধুনিক সুবিধাদি আরও সহজলভ্য করতে হবে।’ লিউকেমিয়াসহ সব ক্যানসারের বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা বিএসএমএমইউতে চালু করা হবে বলে জানান তিনি।
সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন বিএসএমএমইউর উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ হোসেন, সার্জারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেন, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান, হেমাটোলজি বিভাগের রেসিডেন্ট ডা. শারমিন ইয়াসমিন ও ডা. মীম জারিন তাসনিম, মেডিসিন অনুষদের ডিন হেমাটোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মাসুদা বেগম, হেমাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এবিএম ইউনুস ও অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুজ্জামান খান প্রমুখ।
