ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকা থেকে পাজেরো গাড়িতে তুলে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ২০ লাখ টাকা ও মোবাইলফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগ করেছেন মো. মহিউদ্দিন খান নামের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী।
শনিবার বিকেলে পাঁচ-ছয়জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাকে মোটরসাইকেল থেকে গাড়িতে তুলে হাত-মুখ বেঁধে টাকা ও মোবাইলফোন ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগ তার।
এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় একটি মামলাও করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগী ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেল ৪ টা ১০ মিনিটের দিকে ঢাবি ক্লাবের সামনে থেকে মহিউদ্দিনকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে একটি পাজেরো গাড়িতে উঠিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাকে আহত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে গেলে পথচারীদের সহায়তায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।
মহিউদ্দিন খান সাংবাদিকদের জানান, প্রথমে প্রশাসনের লোক ভেবে মোটরসাইকেল থেকে নেমে পড়ি। এরপর তাকে জোর করে একটি পাজেরো গাড়িতে ওঠানো হয়। গাড়িতে হাত ও মুখ বেঁধে ফেলার পরে বুঝতে পারেন, ডাকাত দলের কবলে পড়েছেন। ছিনতাইকারীদের বয়স আনুমানিক ২৮-৩২ বছরের মধ্যে হবে। তাদের সবার উচ্চতা ৫ ফুট ৮ ইঞ্চির কাছাকাছি এবং গায়ের রং শ্যামলা। পরনে ছিল প্যান্ট, হাফহাতা গেঞ্জি ও হাফহাতা কোটি। তাদের দেখলেই চিনতে পারবেন বলে দাবি করেন মহিউদ্দিন।
শাহবাগ থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা, রমনা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে তারা তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
সোমবার রাত পনে ৯টায় ডিএমপির রমনা বিভাগের সহকারী কমিশনার (এসি) মো. বায়েজীদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শাহবাগ থানায় একটি মামলা রুজু হয়েছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান আছে। এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর নিউমার্কেটে রায়হান জুয়েলার্স নামে একটি দোকান আছে মহিউদ্দিনের। শনিবার দুপুর ১টার দিকে তিনি বাসা থেকে তাঁতীবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। দুপুর ২টার দিকে তাঁতীবাজার ২১ নম্বর মার্কেটে পৌঁছান। কাজ শেষে বেলা ৩টার দিকে ভাড়ার মোটরসাইকেলে নিউমার্কেটের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। সাড়ে ৩টার দিকে ঢাবি ক্লাবের মূল ফটক থেকে ২০ গজ দুরে পেছন থেকে একটি গাড়ি মোটরসাইকেলের সামনে এসে দাঁড়ায়। ওই গাড়ি থেকে তিনজন নেমে মহিউদ্দিনকে মোটরসাইকেল থেকে নামতে বলেন। প্রশাসনের লোক ভেবে মহিউদ্দিন মোটরসাইকেল থেকে নেমে যান।
মোটরসাইকেল থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে মহিউদ্দিনের মাথায় পিস্তল ঠেকানো হয়। পরে তাকে গাড়িতে তুলে গামছা দিয়ে চোখ বেঁধে ফেলা হয়। গাড়িতে তোলার সময় চালক ও পেছনে বসা আরও একজনকে দেখতে পান তিনি। মহিউদ্দিন তাদের জিজ্ঞাসা করেন, আমার চোখ বাঁধেন কেন ভাই? তখন তারা উত্তেজিত হয়ে মহিউদ্দিনকে চুপ থাকতে বলেন ও চোখে-মুখে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন।
কোনো কথা জিজ্ঞেস না করেই লোকগুলো তাকে মারধর করছিল। গাড়ি কিছুদূর যাওয়ার পর তারা মহিউদ্দিনের দুই হাত পেছনে নিয়ে হাতকড়া পরিয়ে দেন। এ ছাড়া তিনি যাতে চিৎকার করতে না পারি, সেজন্য গামছা দিয়ে মুখ বেঁধে ফেলেন।
অপহরণকারীরা তার দুপায়ে রাবার দিয়ে বাঁধা দুই লাখ করে চার লাখ ও কোমরে কাপড়ের বেল্টে বেঁধে রাখা আরও ১৬ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। সঙ্গে তার ব্যবহৃত মোবাইলফোনটিও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে হাত-পা ও চোখ বেঁধে তাকে রাস্তার পাশে ফেলে দেওয়া হয়।
এজাহারে আরো বলা হয়েছে, রাস্তার পাশে কয়েকজন তার গোঙানির শব্দ শুনে বাঁধন খুলে দেন। উদ্ধারকারীদের কাছ থেকে জানতে পারেন তিনি কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর এলাকার রাস্তার পাশে রয়েছেন।
