সাতক্ষীরার শ্যামনগরের হামলা এবং নরেন্দ্রনাথ মুন্ডা হত্যার বিচার দাবি করে এসব ঘটনায় সরকার ও পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল।
তিনি বলেছেন, “আদিবাসীদের ওপর নির্যাতন হত্যা, ভূমি দখল চলতেই থাকবে? এটা তো হতে পারে না। তারা কি আন্দোলন করতে করতেই জীবন পার করবে? রাষ্ট্রের দায়িত্ব জাতি-বর্ণ নির্বিশেষে মানবাধিকার রক্ষা করা। আজ দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, মানবাধিকার রক্ষায় রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে।”
বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে নয়টি আদিবাসী ও নাগরিক সংগঠনের যৌথ আয়োজনে ‘সাতক্ষীরার নরেন্দ্র মুন্ডা হত্যা ও আদিবাসী ভূমি দখলের প্রতিবাদে’ সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।
সুলতানা কামাল বলেন, “আমরা উন্নয়ন চাই। যদি উন্নয়নের সুফল সব জনগোষ্ঠী সমানভাবে না পায়, তাহলে সেটি কিসের উন্নয়ন? দেশে প্রতিনিয়ত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। বিচারহীনতার কারণে এসব নির্যাতনের শিকার মানুষ কষ্ট পাচ্ছে।”
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এই আইনজীবী বলেন, “পুলিশি ভূমিকার নিন্দা জানাতে জানাতে আমরা ক্লান্ত। আমরা চাই, পুলিশ নিজেদের দিকে ফিরে তাকাক। কেন সংবাদ সম্মেলন করে বিচার চাইতে হবে?”
সরকারের সমালোচনা করে সুলতানা কামাল বলেন, “ক্ষমতা পেতে এবং ক্ষমতায় টিকে থাকতে সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে বলে দাবি করলেও তারা চেতনার বাইরে গিয়ে মৌলবাদীদের সঙ্গে আপসের নীতি অনুসরণ করছে।
“নারীর সমতা, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও পাঠ্যপুস্তকে সাম্য নীতি থেকে সরকার সরে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে মানবাধিকার রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে, কিন্তু তারা সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে।”
শ্যামনগরের হামলা ও নরেন্দ্রনাথ মুন্ডা হত্যার বিচার দাবি করে সুলতানা কামাল বলেন, “মানুষের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ রাষ্ট্রকে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।”
সংবাদ সম্মেলন নরেন্দ্র মুন্ডার ভাতিজা এবং হত্যা মামলার বাদী ফনিন্দ্রনাথ বলেন, “গত ১৯ অগাস্ট জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রভাবশালী ভূমিগ্রাসী মহলের হামলায় ১২ জন মুন্ডা আদিবাসী আহত হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার চাচা নরেন্দ্রনাথ মুন্ডা মারা যান। জমিটি নিয়ে মামলা চলছে। আমরা বলেছিলাম, কোর্টের রায় যা হবে তা মেনে নেব, তার আগে কিছু নয়। কিন্তু তারা সেটা মেনে না নিয়ে মারধর করে এবং ফসল নষ্ট করে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কেউ হামলার পর এগিয়ে আসেনি। ৯৯৯ এ ফোন করলে পুলিশ আমাদের উদ্ধার করে।”
তিনি বলেন, “হত্যা মামলার চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলেও প্রধান আসামি রাশিদুল ও এবাদুলকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি। আমরা হামলার পর থেকে আতংকিত অবস্থায় আছি। আমরা অতি দ্রুত এদের বিচার দাবি করি।”
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, “আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ প্রশাসন যথেষ্ট তৎপর নয়। স্থানীয় জনগণ বলছে, পুলিশের ভূমিকাও রহস্যজনক।”
সংবাদ সম্মেলনে এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন, আহত মুন্ডা নারী রিনা মুন্ডা, মুন্ডাদের অধিকার সংরক্ষণ আন্দোলন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আশিক-ই-এলাহী উপস্থিত ছিলেন।
