শুরুতে ধুঁকতে থাকা শ্রীলংকা শেষ বেলায় তুলল ঝড়। যে পাকিস্তানের পেসারদের শুরুতে লংকান ব্যাটিং লাইনআপ এলোমেলো হয়ে যায়। সেই দলের ব্যাটাররাই শেষ দশ ওভারে চালিয়েছেন তান্ডব। ভানুকা রাজপাকসের ৭১ রানের ঝড়ো ইনিংসে পাকিস্তানকে ১৭১ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়েছে এশিয়া কাপের আয়োজক দেশটি।
আগের ম্যাচে বিশ্রাম পাওয়া তরতাজা নাসিম শাহ তাই ইনিংসের তৃতীয় বলেই ঘণ্টায় ১৪২ কিলোমিটার গতির বল ছুঁড়লেন। যা কুশল মেন্ডিস সামলাতে পারেননি, এলোমেলো হয়ে যায় তার স্টাম্প। টুর্নামেন্টে শ্রীলংকার অন্যতম সেরা ব্যাটার ফিরেন গোল্ডেন ডাক পেয়ে।
ফাইনালের আগে দলের ৪৫ শতাংশ রানই এসেছিল উদ্বোধনী জুটি থেকে। যেখানে কুশল মেন্ডিসের সঙ্গী ছিলেন পাথুম নিশাংকা। তাই শুরুতেই উইকেট হারানোটা লংকানদের জন্য বড় ধাক্কা। সে ধাক্কা সামলে নেওয়ার চেষ্টা অবশ্য চালাচ্ছিলেন ধনানঞ্জয়া ডি সিলভা ও নিশাংকা। পাকিস্তানের গতির জবাব দারুণ টাইমিংয়ে দিচ্ছিলেন তারা। মোহাম্মদ হাসনাইনের ওভারে দুই চার মারেন ধনঞ্জয়া ডি সিলভা, দুটিই কাভার দিয়ে। পরের ওভারে নাসিম শাহকে কাভার দিয়ে আরেকটি চার মারেন নিশাংকা।
তবে পাক বোলারদের গতির মোকাবেলা করতে গিয়ে এক পর্যায়ে মুখ থুবড়ে পড়েন নিশাংকা। হারিস রউফের বলটা ঠিক স্লটে না থাকলেও আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে তুলে মেরেছিলেন তিনি, তবে ঠিকঠাক টাইমিং হয়নি। মিড অফ থেকে পেছনে ছুটে গিয়ে ক্যাচ নিয়েছেন বাবর আজম। নিজের প্রথম ওভার করতে এসেই সফল হন রউফ। নিশাংকা ফিরেন ১১ বলে ৮ রান করে।
দুই ওপেনারকে হারানোর ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই তৃতীয় উইকেটের পতন হয় লংকানদের। হারিস রউফের বলের গতিতে যেন দিশেহারা গুনাথিলাকা। অফ স্টাম্পে একটু বাইরে পিচ করে বল ঢুকেছিল ভেতরের দিকে, উড়ে গেল অফ স্টাম্প। ঘণ্টায় ১৫১ কিলোমিটার গতির ডেলিভারিটির কোনো জবাবই ছিল না বাঁহাতি দানুশকা গুনাতিলাকার কাছে। ৪ বলে ১ রান করে ফিরে গেলেন তিনি।
এরপরেই আরেক বাঁহাতি ভানুকা রাজাপাকসেকেও ফেরাতে পারতেন রউফ। তার ইয়র্কার মিস করে গিয়েছিলেন রাজা, লেগেছিল বুটে। পাকিস্তানের জোরাল আবেদনে অবশ্য সাড়া দেননি আম্পায়ার মাসুদুর রহমান। বাবর আজম রিভিউ নিয়েছিলেন, তবে উইকেটে হয়েছে আম্পায়ার্স কল। মাসুদুরের সঙ্গে এরপর মজা করতে দেখা গেছে শাদাব খানকে। আম্পায়ারকে দুই হাত আড়াআড়ি নাড়ানোর বদলে আঙুল তুলতে বলছিলেন তিনি।
তবে রউফের গতি ঝড়ে টিকলেও ইফতিখার আহমেদের স্পিন ঘূর্ণিতে কুলিয়ে উঠতে পারেননি সিলভা। এবারের এশিয়া কাপে এর আগে এক ইনিংসেই শুধু বোলিং করেছেন ইফতিখার, হংকংয়ের বিপক্ষে। সেই ইফতিখারের ওপর চড়াও হতে গিয়ে ফিরতি ক্যাচ দিলেন ধনঞ্জয়া ডি সিলভা! ওভার দ্য উইকেট থেকে বোলিং করা ইফতিখারকে টেনে মারতে চেয়েছিলেন, তবে ইফতিখারকেই পার করাতে পারেননি এখন পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার সেরা ব্যাটসম্যান।
সিলভার পর শাদাব খানকে স্লগ করতে গিয়ে বোল্ড হলেন অধিনায়ক দাসুন শানাকা। যে লেংথে ছিল, আড়াআড়ি অমন শট তাতে হওয়ার কথা নয়। তবে শানাকা উচ্চাভিলাষী হতে গেলেন, ভুলও করলেন। ইনিংসে তৃতীয় শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যান হিসেবে বোল্ড হলেন শানাকা, ৩ বলে ২ রান করেই।
সেখান থেকেই যেন শ্রীলংকার ঘুরে দাঁড়ানো শুরু। ক্রিজ কামড়ে টিকে থাকা ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার সঙ্গে রানের গতি বাড়াতে থাকেন ভানুকা রাজাপাকসে। দুজনে মিলে গড়েন ৫৮ রানের একটি জুটি। যা ধুঁকতে থাকা শ্রীলংকাকে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখায়। এতটাই ভয়ংকর হয়ে উঠেছিলেন দুজনে যে উইকেট খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায় পাকিস্তানের কাছে। শেষে পেসার রউফ এনে দেন ব্রেক-থ্রো। ঘণ্টায় ১৪৫ কিলোমিটার গতিতে বলটি করলেন রউফ, অফ স্টাম্পের একটু বাইরের চ্যানেলে, ফুললেংথে। আবার ব্যাট চালিয়ে এজড হলেন হাসারাঙ্গা, ২১ বলে ৩৬ রান করার পর।
তবে ক্রিজে টিকে থাকেন রাজা। ঝড়ো গতিতে তুলতে থাকেন রান। তুলে নেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ফিফটি। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৪৫ বলে ৭১ রান করে। ইনিংসটি সাজান ৬ চার ও ৩ ছক্কায়। চামিকা করুণারত্নে ১৪ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ ৩১ বলে তারা ৫৪ রানের জুটি গড়েন।
অথচ পাকিস্তান পেসারদের পর শাদাব খান ও ইফতিখার আহমেদের তোপে ৫৮ রানেই পঞ্চম উইকেট হারিয়েছিল শ্রীলংকা। এরপরই তাঁরা ঘুরে দাঁড়াল ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ও ভানুকা রাজাপক্ষের ৩৬ বলে ৫৮ রানের জুটিতে। রাজাপক্ষে ভাগ্যের সহায়তা পেয়েছেন ইনিংসের শেষভাগে, সেটি কাজেও লাগিয়েছেন দারুণভাবে। শেষ ১০ ওভারে লংকান ব্যাটাররা তুলেছেন ১০৩ রান। শ্রীলংকা সংগ্রহ করেছে ১৭০ রান।
