বিএম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণ

এখনো নিখোঁজ ইয়াসিন, পরিবার পায়নি ক্ষতিপূরণ

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৭:৩৫ পিএম

চলতি বছরের ৪ জুন সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিখোঁজ ফেনীর ফুলগাজীর ইয়াসিনকে এখনো পায়নি তার পরিবার।

নিখোঁজের তিন মাস ১২ দিন অতিবাহিত হলেও পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ইয়াসিন কোথায় আছে জানতে না পেরে হতাশায় রয়েছেন তারা। স্বজনরা লাশের অপেক্ষায় দিন গুনছে।

ছেলের সন্ধানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে গিয়ে শুধু তাকিয়ে থাকেন ইয়াসিনের বাবা বদিউল আলম খোকা মিয়া। সাত সন্তানের মধ্যে ইয়াসিন দ্বিতীয় ছেলে। ১২ বছর আগে সীতাকুণ্ড বিএম কন্টেইনার ডিপোতে গাড়ি চালকের দায়িত্ব পান ইয়াসিন।

তিনি ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড ঘোসাইপুর গ্রামের উত্তর বড় বাড়ির বদিউল আলমের ছেলে।

ইয়াসিনের বড় ভাই আবদুল মোতালেব বলেন, আমার ভাইয়ের খোঁজে চট্টগ্রাম মেডিকেলের মর্গে বারবার গিয়েছি কিন্তু তার কোনো সন্ধান পাইনি। মেডিকেল কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞেস করলে তারা বলেন আপনারা ঢাকায় যোগাযোগ করেন। এখানে কোনো খবর নেই।

তিনি আরো বলেন, আমার ভাই বিএম কনটেইনার ডিপোতে গাড়ির ড্রাইভার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আমরা ক্ষতিপূরণের আশায় সেখানে গিয়ে কোম্পানির লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা আমার ভাইকে চিনেন না এবং আমাদের চিনতেও রাজি না বলে জানানয়। তারা আমাদের বলেন এ ব্যাপারে আমরা কিছুই জানি না। একদিকে আমার ভাইয়ের লাশের খোঁজ পাচ্ছি না, আরেকদিকে আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে আমরা খুব দুর্বল হয়ে পড়েছি। মানবেতর জীবন যাপন করছি। আমাদের খোঁজ খবর কেউ রাখছে না। আমরা এখনো কোম্পানি এবং সরকারের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাইনি।

এ দিকে বিএম কনটেইনার ডিপোর একজন নির্বাহী পরিচালক গত দুদিন আগে একটি সংবাদমাধ্যমে বলেন, হতাহত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষতিপূরণ বাবদ ইতিমধ্যে ১৮ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। আহত অনেককে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের ঘোষণা অনুযায়ী দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যদের কাছে বেতনের সমপরিমাণ অর্থ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

তবে লাশ না মেলায় সবকিছু থেকে বঞ্চিত ইয়াসিনের পরিবার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত