যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার ঘোষণা চীন-রাশিয়ার

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:২৭ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের তৈরি বিশৃঙ্খল পৃথিবীতে ‘সুস্থিতি’ আনতে এবং ‘ইতিবাচক সম্ভাবনা’ ছড়িয়ে দিতে একসঙ্গে কাজ করবে চীন এবং রাশিয়া। উজবেকিস্তানের সমরখন্দে আয়োজিত সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের সম্মেলনে বৃহস্পতিবার মুখোমুখি হয়ে এই কথাই জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো সরাসরি বৈঠক করলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বৈঠকে পশ্চিমাদের রুখতে কৌশলগত মিত্রতার ওপর জোর দেন তারা।

বৈঠকে শি জিনপিং পুতিনকে বলেন, ‘সম্প্রতি আমরা কোভিড অতিমারিকে কাটিয়ে উঠেছি। তার মধ্যেও আমাদের বহুবার ফোনে কথা হয়েছে। আমরা আমাদের কৌশলগত সম্পর্ককে সর্বদাই গুরুত্ব দিয়ে এসেছি।’

শি আরও বলেন, পরাশক্তির ভূমিকা গ্রহণের জন্য রাশিয়ার সঙ্গে কাজ করতে ইচ্ছুক চীন। সামাজিক বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে নাড়িয়ে দেওয়া বিশ্বে স্থিতিশীলতা অর্জন ও ইতিবাচক শক্তি প্রয়োগে পথপ্রদর্শকের ভূমিকাও পালন করতে চায় বেইজিং।

অপর দিকে ইউক্রেন যুদ্ধে ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য চীনের কাছে ‘কৃতজ্ঞতা’ প্রকাশ করেছেন পুতিন। চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের পরেই আমেরিকার সমালোচনায় সরব হয়েছেন পুতিন। তার কথায়, ‘আমেরিকা একমেরুর একটি বিশ্বব্যবস্থা তৈরি করতে চাইছে।’ তার জন্য তারা যে ভয়ঙ্কর রূপ দেখাচ্ছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলেও দাবি করেছেন পুতিন। এই প্রসঙ্গেই চীনের রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতার দাবির পক্ষেও সুর চড়িয়েছে রাশিয়া। তাইওয়ানে আমেরিকার ‘নাক গলানো’র সমালোচনা করে পুতিন বলেন, ‘তাইওয়ান প্রণালীতে আমেরিকার প্ররোচনা সৃষ্টির চেষ্টার আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’

গত ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন পুতিন। এর কয়েক দিন আগে বেইজিংয়ে শীতকালীন অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গিয়ে সির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। তাঁরা তখন দুই দেশের সম্পর্ককে ‘সীমাহীন’ বলে অভিহিত করেন। ইউক্রেনে হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার ওপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা দেয়। কিন্তু এ সময় পশ্চিমা দেশগুলোর পথে না হেঁটে ভারসাম্যমূলক নীতি বজায় রেখেছে চীন।

চীন, রাশিয়া, ভারত, পাকিস্তান এবং সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তানকে নিয়ে এসসিও গঠিত হয় ২০০১ সালে। পশ্চিমা দেশগুলোর বিপক্ষে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা জোট গড়তে এটা প্রতিষ্ঠা করা হয়।

শির সঙ্গে বৈঠকের আগে পুতিন কিরগিজস্তান, তুর্কমেনিস্তান, ইরান ও পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তিনি পশ্চিমা বিশ্বের তীব্র সমালোচনা করেন।

দুবছর কোভিড অতিমারিতে বন্ধ থাকার পর এই বছরই ফের বসতে চলেছে এই সম্মেলনের আসর। চীন, রাশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, কাজাখস্তান, কিরঘিজস্তান, উজবেকিস্তান এবং তাজিকিস্তানকে নিয়ে গঠিত এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে সদস্য দেশগুলো পারস্পরিক নিরাপত্তা, শক্তিসাম্য ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য বৃহস্পতিবারই উজবেকিস্তানের বিমান ধরেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পুতিনের সঙ্গে তারও একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা। প্রসঙ্গত, রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম কোনও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মিলিত হবেন বিশ্বের তাবড় রাষ্ট্রপ্রধানরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত