বছরখানেক আগেও সুন্দরবনের ভারতীয় অংশে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা কমে আসছিল। কিন্তু বর্তমানে সে চিত্র পাল্টে গেছে। বাংলাদেশ থেকে দলে দলে রয়েল বেঙ্গল টাইগার ঠাঁই নিয়েছে সুন্দরবনের ভারতীয় অংশে। কলকাতাভিত্তিক নিউজপোর্টাল সংবাদ প্রতিদিনের এক প্রতিবেদনে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পশ্চিমবঙ্গের বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক জানিয়েছেন, সুন্দরবনের ভারতীয় অংশে এই মুহূর্তে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা কমবেশি ১২৩টি। গত বছরের বাঘ শুমারি অনুযায়ী সুন্দরবনের ওই অংশে বাঘ ছিল ৯৬টি। এ বছরে নতুন করে ২৭টি বাঘের সন্ধান পাওয়া গেছে।
মন্ত্রী বলেন, সুন্দরবন এলাকায় রামগঙ্গা ও অন্যান্য এলাকায় অন্তত পাঁচটি দ্বীপে বাঘের সন্ধান মিলেছে। এই দ্বীপগুলিতে টাইগার রিজার্ভ এরিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এখানকার সংখ্যাটাও যোগ হবে। আগামিদিনে এখানকার বাঘেরাও বাচ্চার জন্ম দেবে। তাতে বাঘের সংখ্যা আরো বাড়বে।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, হঠাৎ ভারতের সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার এত বৃদ্ধির কারণ কী?
রাজ্যের এক শীর্ষ বন কর্মকর্তার এক বাক্যের জবাব, রাজ্য সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত! তার কথায়, সুন্দরবনের মোট আয়তন ১০ হাজার বর্গ কিমি। তার মধ্যে অধিকাংশটাই বাংলাদেশের অন্তর্গত ৬০০০ কিমি। বাকি ৪০০০ কিমি ভারতে। আয়তনে বড় হলেও বাংলাদেশের বাদাবনে বাঘের খাবার নেই বললেই চলে। আর পশ্চিমবঙ্গের গ্রামে বাঘ ঢোকা রুখতে জঙ্গলে খাবারের জোগান অক্ষুণ্ণ রাখতে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। সেই টানেই সীমান্ত পেরিয়ে বাঘের ভারতে প্রবেশ করে। ২০০৪ সালে বাংলাদেশে ৪০০'র কাছাকাছি বাঘ ছিল। ২০১৭ তে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ১৫০তে। বর্তমানে বাঘের সংখ্যা ১২০ এর মতো।
এ প্রসঙ্গে বনমন্ত্রী বলছেন, জঙ্গলে খাবারে টান ধরলেই বাঘ গ্রামে ঢুকে পড়ে। সে কারণে বাঘ নিয়ে মাস্টারপ্ল্যান বানানোর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বাদাবনে বাঘের খাদ্যের ভাঁড়ারে যাতে টান না ধরে, তা নিয়েও স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশ মেনে নৌকায় চাপিয়ে হরিণ ও শূকর নিয়মিত ছেড়ে দিয়ে আসা হয় গভীর জঙ্গলে বাঘের এলাকায়।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জঙ্গলে খাবার নেই। তাই বাঘ ভারতে চলে আসছে। বাংলাদেশে ১২০টির মতো বাঘ আছে আপাতত। বাকিরা সবাই এপারে।
