দেশের চিনি শিল্প ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা প্রকাশ করে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকিয়া সুলতানা বলেছেন, উৎপাদন বৃদ্ধিতে আখের বিক্রি মূল্য মণপ্রতি ১৮০ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। মূল্য বৃদ্ধির ফলে আখচাষিদের আগ্রহ ফিরবে।’
শনিবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গায় এসে এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় আখের পাইল প্রকল্প, কেরু চিনিকল ও কেরু ডিস্টিলারি পরিদর্শন করেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকিয়া সুলতানা ও বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি) এর চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান অপু।
বেলা ১১টায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আড়িয়া গ্রামের মাঠে বিএসএফআইসি ও বিএটি বাংলাদেশের যৌথ প্রচেষ্টায় আখের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প পরিদর্শন করেন।
পরে, কেরুজ জৈব সারখানা, কেরুজ চিনি মিল, ডিস্টিলারি মিলসহ কেরু অ্যান্ড কোম্পানির অঙ্গপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন তারা। এ সময় কেরু ডিস্টিলারিতে বৃক্ষ রোপণ করেন অতিথিরা।
পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকিয়া সুলতানা আরও বলেন, ‘আখের জাত প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে গুণগত মানসম্পন্ন আখ উৎপাদনে সহায়তা এবং উদ্বুদ্ধকরণে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন এর সঙ্গে বিএটি বাংলাদেশ একযোগে কাজ করে চলেছে। সম্ভাবনাময় এই শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে আমরা বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি যার মধ্যে এই টেকসই মডেল প্রকল্পটি অন্যতম। এ ধরনের উদ্যোগ দেশজুড়ে সম্প্রসারণ করা গেলে দেশের প্রান্তিক চাষি আখ চাষে উদ্বুদ্ধ হবে এবং ফলস্বরূপ চিনি কলগুলোতে পুনরায় গতির সঞ্চার হবে বলে আমার বিশ্বাস।’
সচিব বলেন, বাংলাদেশের সামগ্রিক ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বয় সাধন ও নতুন নতুন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণের বিকল্প নেই। সফল এই প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে আখের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারলে অদূর ভবিষ্যতে আমদানি নির্ভরতা কাটিয়ে চিনি শিল্প সগৌরবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হবে।
বিএসএফআইসি'র চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান অপু বলেন, ‘চিনির উপর আমদানি নির্ভরতা কমাতে টেকসই কৃষি ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। বিএটি বাংলাদেশের মাধ্যমে করা এই প্রকল্পে আমরা যে সফলতা পেয়েছি তা আমরা কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাই, যাতে করে তারা সামনের দিনগুলোতে আখ চাষে আরও উদ্বুদ্ধ হয়।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খান, কেরুর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোশারফ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তারেক, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা বেগম, বিএটি এর হেড অফ লিগ্যাল বন্ড এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স মুবিনা আসাফ, হেড অফ এক্সটার্নাল এফেয়ার্স শেখ শাবাব আহমেদ, হেড অফ পাবলিক অ্যাফেয়ার্স ও কোম্পানি সেক্রেটারি আজিজুর রহমান এফসিএস, ডিভিশনাল লীফ ম্যানেজার ভেলায়েত আলী আহসান প্রমুখ।
