কিংবদন্তি গীতিকার ও সুরকার শচীন দেব বর্মণের বাড়িটি আন্তর্জাতিক মানের একটি সংগীত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং মিউজিক্যাল আর্কাইভ হচ্ছে। গতকাল রবিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ২৮তম বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে বৈঠকে এ ব্যাপারে সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে এ সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সুপারিশের বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি উপস্থাপন করা হয়। সেখানে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় উল্লেখ করে, প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ শচীন দেব বর্মণের বাড়িটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ওই প্রতœস্থলে মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে প্রয়োজনীয় সংস্কার-সংরক্ষণ কাজ শেষ হয়েছে। কুমিল্লার জেলা প্রশাসক প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাছে বাড়িটি হস্তান্তর করেনি। তবে বাড়িটি হস্তান্তর করা হলে পুরো বাড়িটি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে এনে আন্তর্জাতিক মানের একটি সংগীত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং মিউজিক্যাল আর্কাইভ স্থাপনের জন্য একটি ডিডিপি পেশ করা হবে।
রাজধানীতে হচ্ছে বড় ও ছোট সাংস্কৃতিক কেন্দ্র : বৈঠকে মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ঢাকা শহরে সংস্কৃতি চর্চার প্রসারে এলাকাভিত্তিক ছোট ছোট সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার পাশাপাশি বৃহৎ আকারের একটি সাংস্কৃতিক বলয় নির্মাণ করতে রাজধানী উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে উত্তরায় ৪১ কাঠা জমি বরাদ্দ দিয়েছে। ওই জমির লিজ দলিল সম্পাদনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বৈঠকে সাংস্কৃতিক বলয় নির্মাণের লক্ষ্যে পূর্বাচলে ১০ একর জমি বরাদ্দের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি সারসংক্ষেপ পাঠানোর সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার চা শ্রমিকদের জন্য একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ এবং কিশোরগঞ্জ জেলায় সত্যজিৎ রায়ের বাড়িটি সংস্কারের সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময়কালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, শিক্ষা, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নেওয়া যেসব পরিকল্পনা ও গৃহীত কার্যক্রমের তথ্য-উপাত্তসমূহ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংগ্রহ ও জাতীয় আর্কাইভসে সংরক্ষণ করার জন্য সুপারিশ করা হয়।
এ ছাড়া যাত্রাশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি কর্র্তৃক নিবন্ধিত যাত্রাদল দেশের যেকোনো অঞ্চলে যাত্রা প্রদর্শন করতে পারে সে লক্ষ্যে জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারকে অনুমতিদানে সহযোগিতা করতে চিঠি পাঠানোর জন্য কমিটি সুপারিশ করে।
কমিটির সভাপতি সিমিন হোসেনের (রিমি) সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ, মমতাজ বেগম, আসাদুজ্জামান নূর, অসীম কুমার উকিল, সুবর্ণা মুস্তাফা এবং শেরীফা কাদের অংশ নেন।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর, আর্কাইভ ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তর, প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
