শৃঙ্খলা কমিটির সভায় পিস্তল হাতে এমপির 'বিশৃঙ্খলা'

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৬:৫৮ পিএম

শাজাহানপুর উপজেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বগুড়া-৭ আসনের এমপি রেজাউল করিম বাবলু উপজেলা চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন সান্নুর দিকে পিস্তল তাক করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলমগীর বাদশা এমপির কাছে প্রকল্প পাওয়ার নামে দেওয়া টাকা চাইতে গেলে বাগবিতণ্ডা শুরু হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন জানিয়েছেন।

এক পর্যায়ে 'আত্মরক্ষায়' পিস্তল বের করেন এমপি। যদিও, উপজেলা চেয়ারম্যান বলছেন, এমপি বাবলু তার দিকে পিস্তল তাক করেছেন।

বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শাজাহানপুর উপজেলা পরিষদে এ ঘটনা ঘটে। তারপরই উপজেলা পরিষদ থেকে চলে যান এমপি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে শাজাহানপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা চলছিল। এ সময় এমপি মহোদয়ের সঙ্গে বাইরে ঝামেলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলমগীর বাদশা বলেন, ২০১৯ সালে মসজিদ, রাস্তাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ আসে। ওই সময় অনেকের কাছ থেকে বরাদ্দ দেওয়ার নামে টাকা নেন এমপি। সে সময় তার কাছ থেকে তিন লাখ ৯৫ হাজার টাকা নেন তিনি। কিন্তু সেই বরাদ্দ এখনো দিতে পারেননি এমপি। আগের টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না। তার সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি দিচ্ছেন-দেবেন বলে এড়িয়ে যেতেন। 

বুধবার উপজেলা পরিষদে দেখা হতেই টাকা ফেরতের কথা বলি। এ সময় এমপি বাবলু উত্তেজিত হয়ে বলেন, তিনি কোনো টাকা নেননি।  এসময় আমাকে ধাক্কা মারতে থাকেন এমপি। ফারুক নামে তার এক সঙ্গী লাঠি দিয়ে আঘাত করে আমাকে। আমাকে বাঁচাতে গেলে আরেক জনের মাথায় বাড়ি মারে ফারুক। ওই সময় উপজেলা আইনশৃঙ্খলা মিটিং চলছিল। হট্টগোল শুনে উপজেলা চেয়ারম্যান বের হয়ে সবাইকে শান্ত হতে বলেন। সে সময় এমপি পিস্তল বের করে তার দিকে তাক করে, বলেন বাদশা।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী উপজেলা শ্রমিক লীগের নেতা শহিদুল ইসলাম জানান, বাদশার পাশে দাঁড়ালে এমপির সাথে থাকা ফারুক পিছন থেকে এসে লাঠি দিয়ে তার মাথায় বাড়ি দেয়। পরে উপজেলা চেয়ারম্যান এগিয়ে আসলে এমপি পিস্তল বের করে।

এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সোহরাব হোসেন ছান্নু বলেন, আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা হচ্ছিল। বাইরে হট্টগোল শুনে বের হই। শুনতে পাই চার বছর আগের পাওনা টাকা নিয়ে কথা কাটাকাটি হচ্ছে। তখন এমপি মহোদয়কে বাইরে কথা না বলে আলোচনায় বসে যুবলীগ সেক্রেটারির সঙ্গে ঝামেলা মিটিয়ে নিতে বলি। তিনি হঠাৎ করে পিস্তল বের করে আমার পায়ের দিকে তাক করেন। এ সময় সেখানে পুলিশ এবং উপজেলার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। অবস্থা বেগতিক দেখে কিছুক্ষণ পর চলে যান এমপি। 

তিনি আরো বলেন, এমপির বিরুদ্ধে অনেক প্রকল্প নিয়ে নয়-ছয় করার ঘটনা আছে। এসবের সঠিকভাবে তদন্ত করা দরকার।

তবে এ বিষয়ে সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলু বলেন, উপজেলা পরিষদে সভায় যোগ দিতে গেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার রুমে আলমগীর বাদশা তার সাথে অশালীন আচরণ করেন এবং তার পিএকে মারধর করেন। সভায় না ঢুকতেই ঘটনা ঘটেছে। উপজেলা চেয়ারম্যানও খারাপ আচরণ করেছে। সেসময় আত্মরক্ষায় তিনি ব্যক্তিগত পিস্তল বের করেন তিনি, এছাড়া আর কিছুই না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত