গাছের সঙ্গে বেঁধে রিকশা চালককে মারধর, আটক ১

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:২৯ এএম

জামালপুর পৌর শহরের পলিশা তুলশি বাড়ি এলাকায় পাওনা টাকার জন্য মো. কালাম শেখ (৪২) নামের এক রিকশা চালককে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কালাম হোসেন (৫৫) নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার রাতে রিকশা চালক কামাল শেখ বাদি হয়ে কামাল হোসেন (৫৫), হাফিজুর রহমান (৫২), হাফিজুর রহমানের ভাই মুন্সি (৪৮) এবং ভাতিজা মুন্সির ছেলে বিপুল মিয়াকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। 

নির্যাতনের শিকার ওই রিকশাচালক সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের পলিশা খালপাড় এলাকার মৃত আবদুল খালেক শেখের ছেলে।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা, অভাবের তাড়নায় ৩ মাস আগে প্রতিবেশী কছর উদ্দিনের ছেলে মো. হাফিজুর রহমানের কাছে ১০ হাজার টাকা ধার নেন রিকশা চালক মো. কামাল শেখ।কিন্তু সময়মতো টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হয় সে। পরে হাফিজুরের কাছ থেকে নতুন করে সময় নেন রিকশা চালক কামাল। টানাটানির সংসার চালাতে গিয়ে সে সময়ও চলে যায়।

সেই ধারের টাকা নিয়ে শুক্রবার (২৩সেপ্টেম্বর) সকালে সালিস বসার কথা ছিল। কিন্তু হাফিজুরের বড় ভাই কামাল হোসেন হাফিজুরকে বলে আগেই কিসের সালিস, আগে ওরে (কামাল শেখ) পিটা তারপর সালিস। পরে হাফিজুর কামাল শেখের বাড়ির পাশে মুদির দোকানে বসে তার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে।রিকশা চালক কামাল শেখ রিকশা চালানোর পাশাপাশি টুকিটাকি বাবুর্চির কাজও করে থাকেন। ওই দিন রিকশা চালক কামাল শেখকে প্রতিবেশী একজন খিচুরি রান্না করে দিতে বলে। রিকশা চালক কামাল রান্নার উদ্দেশ্য বাড়ি থেকে বের হয়।

এ সময় হাফিজুর ও তার ভাই মুন্সি এবং ভাতিজা বিপুল মিয়া কামালকে মেহগনি গাছের সঙ্গে বেঁধে বাঁশ দিয়ে মারধর করে। এ খবর পেয়ে কামাল শেখের স্ত্রী ও শিশুপুত্র মোখলেছুর রহমান অন্তর ও মোস্তাফিজুর রহমান তাকে উদ্ধার করতে গেলে তারা তাদের কেউ বাঁশ দিয়ে মারধর করে। পরে কামাল শেখের স্ত্রী প্রতিবেশী মাহবুবুর রহমানকে ফোনে স্বামীকে বাঁচানোর আকুতি জানান। মাহবুবুর রহমান পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কামাল শেখকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনা জড়িত কামাল হোসেন (৫৫) নামে একজনকে আটক করে।

কামাল শেখের স্ত্রী মনোয়ার বেগম জানান, খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করতে আমি ও দুই ছেলে যায়। পরে তাকে (কামাল শেখ) মারধর করা বাদ দিয়ে ওই বাঁশ দিয়ে তারা আমাদের মারধর করে। আমাকে ও দুই ছেলেকে অনেক মারধর করেছে। আমি এর বিচার চাই।

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী শাহনেওয়াজ বলেন, গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ৪ জনকে আসামি করে কামাল শেখ বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনায় জড়িত একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যহাত রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত