মামলা জটিলতায় বছরের পর বছর ধরে জয়পুরহাটে পড়ে আছে পুলিশের জব্দ হওয়া মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, মাইক্রো, ট্রাক, পিকআপ, ব্যাটারিচালিত ভ্যানসহ হাজার হাজার যানবাহন। অযত্ন-অবহেলায় খোলা আকাশের নিচে ঝড়-বৃষ্টি-রোদে নষ্ট হচ্ছে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের এসব যানবাহন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব যানবাহন সুষ্ঠুভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন এবং দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিলামে বিক্রি করলে সরকার এসব থেকে রাজস্ব পেতে পারে।
জানা যায়, জয়পুরহাট জেলায় বিভিন্ন মামলায় প্রায় ১২ হাজার জব্দকৃত আলামত রয়েছে। এসব আলামত ৫টি থানা ও আদালত চত্বরে জরাজীর্ণ অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কয়েক হাজার যানবাহন। এসব যানবাহন মামলা জটিলতায় বছরের পর বছর পড়ে থেকে ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জব্দকৃত এসব যানবাহন ছাউনির নিচে রেখে সংরক্ষণ করে সম্পদগুলো দ্রুত রক্ষার দাবি জানান স্থানীয়রা।
জয়পুরহাট জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নৃপেন্দ্র নাথ ম-ল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জয়পুরহাটের বিভিন্ন থানা ও আদালত চত্বরে মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা যানবাহন যার কোনো ওয়ারিশ নেই, মালিকবিহীন, পুলিশকে এগুলো তদন্ত করতে হয়। যানবাহনগুলো আসলে মাদকদ্রব্য আনা-নেওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না, এসব জানতে হয়। এ জন্য তদন্ত কর্মকর্তার কিছু সময় প্রয়োজন। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা যদি মনে করেন তাড়াতাড়ি এগুলো ডিসপোসআফ (নিষ্পত্তি) করা উচিত, তাহলে যানবাহনগুলোর মালিক খুঁজে বের করে অথবা কোনো মালিকানা না থাকলে আদালতের আদেশ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এগুলো ডিসপোসআফ করতে পারে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে এগুলো নিলামে বিক্রি করলে সরকার রাজস্ব পাবে।’
জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নুরে আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ জেলায় বিভিন্ন মামলার প্রায় ১২ হাজার আলামত আছে। আমাদের কোর্টের মালখানায় এবং থানাতেও পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে মালামালগুলো খোলা আকাশের নিচে রাখা হয়েছে। আলামতগুলোর মধ্যে মাদকদ্রব্যের পাশাপাশ আছে চোরাই ও মালিকানাবিহীন হোন্ডা, পিকাআপ ও অন্যান্য যানবাহন, যেগুলো খোলা আকাশের নিচে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা বিজ্ঞ জেলা জজ মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন দ্রুত মামলাগুলো নিষ্পত্তি করে এগুলো নিলামের মাধ্যমে সরকারের কোষাগারে অর্থ জমা করা হবে।’
