দেশে দূষণ রোধে আইন থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগ নেই। বায়ুদূষণের কারণ প্রতিরোধ করতে হলে সংশ্লিষ্ট আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। জনগণকে সম্পৃক্ত করে বিশেষজ্ঞদের সুপারিশমালা বাস্তবায়ন করতে পারলে বায়ুদূষণ হ্রাস করা কঠিন নয়।
গতকাল রবিবার ‘ঢাকা শহরের বায়ুদূষণ রোধ-যুবদের ভাবনা ও ঘোষনা’ শিরোনামে জাতীয় সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। সেমিনারের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, তিতুমীর কলেজসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষার্থী ও দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের যুবরা অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার বলেন, ‘পরিবেশের উন্নয়নের জন্য আমাদের কথার চেয়ে কাজ বেশি করতে হবে। সমাজের প্রত্যেক স্তরের মানুষকে এ বিষয়ে অন্তর্ভুক্তের পাশাপাশি তাদের সচেতন করতে হবে। যদি জনগণকে সম্পৃক্ত না করতে পারি তাহলে আমাদের মন্ত্রণালয়ের কোনো পরিকল্পনায় বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।’
সেমিনারে জাতীয় অধ্যাপক আইনুন নিশাত বলেন, ‘আগামীর ভবিষ্যতের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ দূষণ সম্পর্কে আমাদের যুবাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন আনতে হবে এবং তাদেরই দায়িত্ব নিতে হবে। আমাদের বেশি বেশি শহরকেন্দ্রিক সমস্যার দিকে মনোযোগ দিতে হবে কেননা শহুরে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রতিনিয়ত যা পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। এর পাশাপাশি আমাদের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে এবং আমাদের পরিবেশ সম্পর্কিত যেসব আইন রয়েছে সেগুলোকে বাস্তবায়নের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।’
বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, ‘গত বছর আমরা সারা দেশের বায়ুর মান পরীক্ষা করেছিলাম। তাতে দেখা গেছে, ৬৪ জেলার মধ্যে গাজীপুর জেলায় বায়ুদূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি। গাজীপুরের বায়ুতে প্রতি ঘনমিটারে ২৬৩.৫১ মাইক্রোগ্রাম অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা খুঁজে পাওয়া গেছে। যেখানে পরিবেশ অধিদপ্তরের মতে, বায়ুতে অতিক্ষুদ্র বায়ুকণার আদর্শমান ৬৫ মাইক্রোগ্রাম। শীত মৌসুমে এসব এলাকায় ৩০০ ঘনমিটারের বেশি অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা পাওয়া যায়। তবে আশার বিষয় হচ্ছে, এটি এখন আলোচনায় এসেছে। পরিবেশবিষয়ক যে সংসদীয় কমিটি রয়েছে তারা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে।’
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, ‘বায়ুদূষণের কিছু বিষয় প্রত্যক্ষভাবে হয়। যেমন আমরা শ্বাস নিচ্ছি তার সঙ্গে অনেক দূষণ আমাদের শরীরে প্রবেশ করছে। দূষিত পদার্থগুলো আমাদে ফুসফুসে গিয়ে জমা হয়। এর ফলে হাঁচি-কাশি হয়। বায়ুদূষণের কারণে নগরবাসীর গড় আয়ু কমছে। বাড়ছে ক্যানসার, কিডনি, হৃদরোগের মতো জটিল রোগ। নষ্ট হচ্ছে নারী-পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা। বাতাসের মাধ্যমে অতি সূক্ষ্মকণা সরাসরি মানবশরীরের ব্রেনে ঢুকে ছোট কোষগুলোকে অকেজো করে দিচ্ছে। এতে শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকিই বাড়ছে না, ব্ল্যাক কার্বন, সিএফসি ও ওজনস্তরকেও উত্তপ্ত করে তুলছে।’
